কোম্পানীগঞ্জে আ. লীগের ২ পক্ষের সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ৬

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২১, ০৭:৫৫ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক পক্ষের মামলায় পুলিশ আহত চেয়ারম্যানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

আহতরা হচ্ছেন, চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, তার পক্ষের হোরণ, রাসেল, মো. রাব্বি, কালাম ও ফয়সালসহ ৬ জন। আহত রাজ্জাক চরএলাহী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক উপজেলার বসুরহাট পৌর শহরের তার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যুবলীগের নেতা–কর্মীসহ বসুরহাটে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পথে হাসপাতাল এলাকায় চরএলাহী আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহাব উদ্দিন ও সেক্রেটারি গণির লোকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহাব উদ্দিন ও গণির লোকজন চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের ওপর হামলা করে।

সূত্র জানায়, ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা শাহাব উদ্দিন ও গণির লোকজন লোহার রডসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালালে চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক আত্মরক্ষার্থে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ওই ক্লিনিকের গ্লাস ভাঙচুর করে সেখানে গিয়ে চেয়ারম্যান রাজ্জাকের মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকেসহ তার লোকজনকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।

চেয়ারম্যান রাজ্জাক অভিযোগ করেন, কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির নেতৃত্বে তাদের লোকজন তার মিছিলে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে হত্যা করার চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে একটি ক্লিনিকে গিয়েও বাঁচতে পারেননি। সেখানে গিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তার ৮-১০জন লোক আহত হয়েছে।

তিনি জানান, হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় গেলে পুলিশ তাকে বসিয়ে রাখে এবং উল্টো তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন আ.লীগের সেক্রেটারি গণির করা মামলা গ্রহণ করে।

চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বসুরহাটে কর্মসূচিতে আসার পর চর এলাহী যুবলীগের সেক্রেটারি আবদুল মালেকের সঙ্গে ছাত্রলীগের এক কমীর কথা-কাটাকাটি হয়। এরপরই চেয়ারম্যান রাজ্জাক ও তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছে, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ঘটনার চেয়ারম্যানের লোকজন আমার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, সম্মেলনে আসার সময় চেয়ারম্যানের লোকজন গণির লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন আহত হন। চেয়ারম্যানের গ্রুপের লোকজন হাসপাতালের সামনে কয়েকটি দোকানও ভাঙচুর করে। পরে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে আবদুল গণি রাজ্জাক চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা দেয়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত