কাতারের সঙ্গে বিরোধ অবসানে ‘সংহতি চুক্তি’ সই সৌদি জোটের

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:১৮ পিএম

কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের চলা সাড়ে তিন বছরের বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে ‘সংহতি ও স্থিতিশীলতা’ চুক্তি সই করেছে গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল-জিসিসি’র সদস্য দেশগুলো।

মঙ্গলবার সৌদি শহর আল-উলায় জিসিসি’র ৪১তম সম্মেলনের প্রথম দিনে এই চুক্তি সই হয় বলে জানিয়েছে আলজাজিরা ও মিডলইস্ট আই।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) বলেন, কাতারের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে ‘সংহতি ও স্থিতিশীলতা’ চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছে জিসিসি সদস্য দেশগুলো।

কাতারের সঙ্গে বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কুয়েতের প্রশংসা করেছেন তিনি।

এর আগে জিসিসি সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-ছানি বিমানে সৌদি শহর আল-উলায় পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দেশটির যুবরাজ। কাতারি আমিরকে একেবারে বিমানের সিঁড়ির কাছে গিয়ে আলিঙ্গন করেন এমবিএস।

কাতার এবং সৌদি ও তার মিত্রদের মধ্যকার এই বিরোধের অবসান ঘটাতে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতা করে আসছিল কুয়েত।

অন্যদিকে শুরুতে কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধকে যথাযথ বললেও দেশটির ইরানের প্রতি ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে মেয়াদের শেষে এসে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমদ নাসের আল-সাবাহ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে এক ঘোষণায় বলেন, ‘কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফের প্রস্তাবে সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যে স্থল, জল ও আকাশ সীমা খুলে দেওয়ার ব্যাপারে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।’

জিসিসি সম্মেলনের আগের দিন সোমবার দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের এ ঘোষণা আসার পর সন্ধ্যায় প্রথমে স্থল সীমানা খুলে দেওয়া হয়।

গত ২০১৭ সালে সৌদির নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিসর এ চার দেশ কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। বন্ধ করে দেওয়া হয় জল, স্থল ও আকাশসীমা।

সন্ত্রাসবাদকে সহযোগিতা এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির অভিযোগ আনা হয় দোহার বিরুদ্ধে। যদিও শুরু থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কাতার।

শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জেরার্ড কুশনারের তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যে এ রাজনৈতিক বিরোধের অবসান ঘটল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত