সিইসিসহ (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) অপর নির্বাচন কমিশনার, বর্তমান সচিব, সদ্য সাবেক সচিব এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ ভাতার নামে সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ অপর আইনজীবীরা সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে অভিযোগের তদন্ত ও মামলা করতে দুদকে আবেদন করেন।
এতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও ইসির নীতিমালা ব্যাতীত ৭ কোটি ৪৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা খরচের মাধ্যমে ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত পদ ছাড়াই ‘বিশেষ বক্তা’ ‘কোর্স পরিচালক’ ও ‘কোর্স উপদেষ্টা’ হিসেবে ভাতা নেওয়া, নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি এবং খাত পরিবর্তন করে ভাতা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এবং অভিযোগের সঙ্গে ইসির কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উল্লেখিত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দণ্ডবিধির ৪০৯/ ৪২০/ ৫১১ ও ১০৯ ধারা এবং ‘প্রিভেনশান অব করাপশান অ্যাক্ট, ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তাই এই অভিযোগ আমলে নিয়ে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ১৭ (ক), ১৭ (খ) এবং ১৭ (গ) অনুযায়ী অনুসন্ধান, তদন্ত পরিচালনা এবং মামলা দায়েরের অনুরোধ জানান ১০ আইনজীবী।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী এ অভিযোগের তদন্ত করতে পারে শুধু দুদক। দুদকের রুলসেও তদন্তের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা আছে। এর ভিত্তিতেই আমরা অভিযোগ দিয়েছি। দুদক যদি কোনো পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে আমরা আইন এবং আদালতের দারস্থ হবো।’
গত ১৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইসির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ এনে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান দেশের ৪২ বিশিষ্ট নাগরিক। তাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক চিঠিটি রাষ্ট্রপতির দপ্তরে জমা দেন।
গত ১৯ ডিসেম্বর এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নাগরিকদের পক্ষে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, বিষয়টি তারা প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করবেন। এ ছাড়া অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে অথবা নৈতিক কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আহ্বান জানান বিশিষ্ট নাগরিকরা।
তাদের চিঠিতে বলা হয়, কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্নভাবে গুরুতর অসদাচরণে লিপ্ত হয়েছেন। কমিশনের সদস্যরা একদিকে গুরুতর আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যা অভিশংসনযোগ্য অপরাধ।
তবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন কে এম নূরুল হুদা।
