বেলকুচিতে নৌকার ২ ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগে আহত ৫

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২১, ০৭:৫৫ পিএম

সিরাজগঞ্জ সদর পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান কাউন্সিলর প্রার্থী ও সাবেক কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে রবিবার দুপুরে হামলা ও সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে।  

অপরদিকে, শনিবার রাতে জেলার বেলকুচি পৌরসভা নির্বাচনের নৌকার মেয়র প্রার্থী বেগম আশানুর বিশ্বাসের ২টি নির্বাচনী ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে সদর থানা-পুলিশ জানায়, রবিবার দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ভূট্টো (প্রতীক ডালিম) ও সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম হাসেমের মধ্যে নির্বাচনী বক্তব্য নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট, পাটকেল নিক্ষেপ, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের ৩ জনকে আটক করে। আহতদের সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

অপরদিকে, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভা নির্বাচনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বেগম আশানুর বিশ্বাসের (প্রতীক নৌকা) ২টি নির্বাচনী ক্যাম্পে শনিবার রাতে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর একটি হল ৬নং ওয়ার্ডের চন্দনগাঁতী মহল্লার কালীবাড়ি এলাকায় ও অপরটি হল ১নং ওয়ার্ডের বয়রা বাড়ি এলাকায়।

এ ঘটনায় বেগম আশানুর বিশ্বাস তার প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজার (প্রতীক নারিকেল গাছ) সমর্থকদের দায়ী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, শনিবার রাতে চন্দনগাঁতী ও বয়রা বাড়িতে নির্বাচনী ক্যাম্পে দলীয় প্রচারণা শেষে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বাড়ি চলে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা এ দুটি প্রচার ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। এতে ওই ক্যাম্প দুটির পোস্টার, পর্দা, চেয়ার-টেবিল পুড়ে যায়। এ ঘটনায় রবিবার সকালে নেতা কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমান রতন জানান, চন্দনগাঁতীর ক্যাম্পে অগ্নি কাণ্ডের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজার লোকজন দায়ী। এর আগে রেজার সমর্থক বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বিতর্কিত ফারুক সরকার ঘোষণা দিয়েছিল এখানে নৌকার ক্যাম্প থাকতে দেওয়া হবে না। সেই ঘোষণা অনুযায়ী এই ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বেগম আশানুর বিশ্বাস জানান, পরিকল্পিত ভাবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজার লোকজন আমার ২ টি প্রচার ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করেছে। আমি এ বিষয়ে পদক্ষেপ চেয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। 

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজা জানান, আমার নির্বাচনী প্রচারণা ব্যাহত করতে নিজেরাই অগ্নিসংযোগ করে আমার লোকদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার চেষ্টা করছেন নৌকার প্রার্থী। আমি বেঁচে থাকতে তা হতে দেব না। এ অগ্নিসংযোগের সঙ্গে আমি বা আমার লোকজন কেউ জড়িত নয়। আমাদের পুলিশ দিয়ে  হয়রানির উদ্দেশ্যে তিনি পরিকল্পিত ভাবে এ কাজ করেছেন। বরং ২ জানুয়ারি ওনার লোকজন আমার শেরনগর এবং চন্দনগাতী নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে ছেন। এ নির্বাচনে তার পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তিনি এ সব করছেন।

এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, আমরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত