সুস্থতা-অসুস্থতা আল্লাহর দান। মানুষের জীবনের আবশ্যিক অনুষঙ্গ। সুস্থতায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা এবং অসুস্থতায় ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের কর্তব্য। এতে রোগ-শোকও নেয়ামতে পরিণত হয়। এর বিনিময়ে পাওয়া যায় আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার।
রোগ-ব্যাধির মাধ্যমে মহান আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা-পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফোটে, এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪১)
তবে শর্ত হলো, বিপদে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫)
আল্লাহতায়ালার এই পরীক্ষার পরিধি হয় মানুষের ইমানের ওপর ভিত্তি করে। মহান আল্লাহ কখনো কখনো কঠিন বিপদ দিয়েও পরীক্ষা করেন। যার ইমান যত বেশি তার পরীক্ষাও তত বড় হয়। রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন তাকে তিনি দুঃখকষ্টে পতিত করেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪৫)
এই রোগ-শোকে যারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাদের সওয়াবও বাড়িয়ে দেন। আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি জ¦রে ভুগছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তো ভীষণ জ¦রে আক্রান্ত। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তোমাদের দুব্যক্তি যতটুকু জ¦রে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ¦রে আক্রান্ত হই। আমি বললাম, এটি এ জন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব। তিনি বললেন, হ্যাঁ তাই। কেননা যেকোনো মুসলিম দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়, তা একটা কাঁটা কিংবা আরও ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মুছে দেন, যেমন গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে পড়ে। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪৮)
