সহস্রাধিক গ্রাহকের টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠান উধাও

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২১, ০৫:৩৪ এএম

লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের ইলিচা বেগম (৪৫) মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পাঁচ বছরে দ্বিগুণ লাভের আশায় টাকা জমা করেছিলেন আল-হামীম পাবলিক লিমিটেড নামে একটি সংস্থায়। ইলিচা বেগমের আশা ছিল টাকা জমিয়ে ধুমধামের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেবেন। কিন্তু তার সেই আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। মেয়াদ পূর্তির আগেই সংস্থাটি এখন লাপাত্তা।

তিস্তাপাড়ের আরেক বাকপ্রতিবন্ধী আবদুর রহমানের (১২) দিনমজুর বাবা আবদুর রশিদ সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ১০ বছর মেয়াদি মাসিক ৫০০ টাকা করে সঞ্চয় করছিলেন আল-হামীম পাবলিক লিমিটেডে। সংস্থাটি পালিয়ে যাওয়ায় এখন তারা আল-হামীমের দেওয়া সঞ্চয়ের বই এবং এ সংক্রান্ত চুক্তিনামা নিয়ে বিভিন্নজনের দ্বারে ঘুরছেন টাকা ফেরতের আশায়।

লালমনিরহাট জেলায় আল-হামীম পাবলিক লিমিটেড ১ হাজার ২৫০ জন হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা নিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে। পাওনা টাকা ফেরতের আশায় গত ৩১ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৩ সালে উপজেলায় মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তা নদী তীরবর্তী চৌধুরীপাড়া এলাকায় আল-হামীম পাবলিক লিমিটেড তাদের কার্যক্রম শুরু করে। দেশের স্বনামধন্য একজন পীরের মুরিদ বলে পরিচিত রাজ মোহাম্মদ (৪৫) অল্প সময়ের মধ্যে তিস্তা তীরবর্র্তী কুঠিরপাড়, দক্ষিণ বালাপাড়া, চওড়াটারী, কলতারপাড়, বড়াইবাড়ি, চৌধুরীপাড়া গ্রামে কোম্পানিটির নেটওয়ার্ক বিস্তার করেন।

মহিষাশহর এলাকার আবদুর রহমান বলেন, তিস্তাপাড়ের হাজারও গরিব মানুষের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে আল-হামীম। রাজ মোহাম্মদ আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকার লোক। এ বিষয়ে জানতে রাজ মোহাম্মদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আল-হামীম কোম্পানির লালমনিরহাট জেলার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লালমনিরহাট সেক্রেটারি শফিউল্লাহ মাহমুদি বলেন, কোম্পানির এমডি এনামুল কবির কহিনুর টাকা ফেরত দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। প্রায় ১ হাজার ২৫০ সদস্যের দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে তিনি জানান।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই সেটি লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত