প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ‘আত্মা বিক্রি’ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবিতে সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেছেন, ‘নূরুল হুদা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীকে শুধু দেখতে পান। কিন্তু জনগণ, ভোটার, নির্বাচন, নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, কারচুপি-জালিয়াতি, দিনের ভোট রাতে- এগুলো উনি দেখতে পান না। এগুলো যদি উনি দেখতে পেতেন তাহলে নির্বাচন ব্যবস্থা যে ধ্বংস হয়ে গেছে, ভোটাধিকার যে হরণ হয়ে গেছে, দেশে এ অবস্থাটা আজ হতো না।’
তিনি বলেন, ‘কাপড় বিক্রেতা শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করে, সবজি বিক্রেতা আলু-টমেটো-বেগুন বিক্রি করে, পতিতা দেহ বিক্রি করে আর নূরুল হুদা আত্মা বিক্রি করেছেন শেখ হাসিনার কাছে।’
বিএনপি মুখপাত্র, ‘২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রার্থীরা জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢুকছেন, দুর্বৃত্তরা ঢুকছেন, এসমস্ত ঘটনা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। অথচ আত্মা বিক্রি করা এই নির্লজ্জ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটের পর দিন ৩১ ডিসেম্বর লজ্জার মাথা খেয়ে বললেন- নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, সঠিক হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যে লোক খারাপ সে সবদিক দিয়ে খারাপ। যে আত্মা বিক্রি করতে পারে যার আত্মা নেই, যে সত্য কথা বলতে পারে না, সে টাকাও চুরি করতে পারে। তার কমিশনের বিরুদ্ধে টাকা চুরি করার অভিযোগ করেছে দেশের ৪১ জন বুদ্ধিজীবী। এ অভিযোগকে তিনি পাত্তাই দেননি।’
‘কারণ বর্তমান সরকারের ক্ষমতাটাই শুধু দরকার আর শেখ হাসিনার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এরকম নির্বাচন কমিশন দরকার’ যোগ করেন রিজভী।
বিএনপির এ শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি সার্বভৌম স্বাধীন সংস্থা, তাদের নিজস্ব আইন আছে। নিজস্ব আইনে তাদের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন করার। কিন্তু নূরুল হুদা তো শেখ হাসিনার কাছে দস্তখত করেছেন, তিনি তো মুচলেকা দিয়েছেন যে, তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেবেন না, তিনি সেটিই করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এছাড়াও বিচার বিভাগে কালো মানিকদের মতো লোক বসানো হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার জন্য যা যা করা দরকার তা-ই করেছেন। আর তার জন্যই তিনি এসব লোকদের এত বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসিয়েছেন।’
বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘শেখ হাসিনার ক্ষমতা ধরে রাখতে যা যা দরকার এরা তা-ই করবে। যদি কেউ বিদ্রোহ করে, যদি সত্য কথা বলে, তাহলে প্রধান বিচারপতি সিনহা (সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা) সাহেবের যে পরিণতি হয়েছিল, সেই পরিণতি ভোগ করতে হবে। সেই ভয়ে এখন কেউ আর সত্য বলার সাহস করছেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা নূরুল হুদার কথা বলছি, তিনি তো শেখ হাসিনা চাকর-বাকরদের নিয়ে বসেছে। কিন্তু গণতন্ত্রের হত্যাকারী কে? দেশের শত্রু কে? দেশের সার্বভৌমত্বের শত্রু কে? স্বাধীনতার সর্বশত্রু কে? সুষ্ঠু ভোটের শত্রু কে? শেখ হাসিনা। তার পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। তার পদত্যাগ নিশ্চিত করলেই দেশে গণতন্ত্র ফিরবে। সুষ্ঠু ভোট হবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হবে।’
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
