চাদঁপুরের হাজীগঞ্জের এক কিশোরী প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেন স্থানীয় কামাল আহমেদ নামে এক যুবককে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা ঠুকে দেন মেয়েটির মা। ছয় মাস পর কামালকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আর মেয়েকে তার মা নিজ জিম্মায় নিতে চাইলেও কিশোরীর সম্মতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট আদালত তাকে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হয় কিশোরী। জামিনে মুক্তি পেয়ে কামাল স্ত্রীকে নিজ জিম্মায় নিতে আবেদন করলেও অধস্তন আদালতে সেটি না-মঞ্জুর হয়। এরপর হাইকোর্টে গেলে আদালত কামালের স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে হাজিরের নির্দেশ দেয়।
বৃহস্পতিবার তারা হাজির হলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে শিশুসহ ওই কিশোরীকে স্বামীর জিম্মায় দিতে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দেয়।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পি।
কামালের আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনা যেহেতু ঘটেনি তাই মেয়ের মায়ের করা অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা বাতিল চেয়ে আবেদন করা হবে। মেয়েটির জবানবন্দির পর এই মামলার আর কার্যকারিতা থাকতে পারে না।
ডিএজি সারওয়ার হোসেন বাপ্পি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত দুজনের বক্তব্য শোনেন। এরপর শিশুর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেয়েটির স্বামীর জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।’
আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য মতে, চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ উপজেলার এই কিশোরী তার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গত বছর ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন। কাবিননামায় মেয়েটির বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। কিন্তু এ বিয়ে মেনে নেয়নি কিশোরীর পরিবার। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর হাজিগঞ্জ থানায় জামাতা কামালের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন শাশুড়ি। মামলার এজাহারে মেয়ের বয়স দেখানো হয় ১৩ বছর ১১ মাস। যদিও জন্ম নিবন্ধন সনদ (২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম) অনুযায়ী বয়স ১৭ বছর। আদালতে স্বীকারোক্তিতে মেয়েটি জানায় তার বয়স ১৬ বছর।
মামলার পর কামালকে গত বছরের ২৬ মে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিশোরীকে নেওয়া হয় নিরাপত্তা হেফাজতে। তিনি তখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে কামালকে নেয়া হলে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে কিশোরীর মা তার মেয়েকে নিজ জিম্মায় নিতে চাইলেও মেয়ে তাতে অসম্মতি জানায়। আদালত তাকে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেয়। সেখানেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয় তার।
গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ওই আদালতে কামাল জামিন চেয়ে আবেদন করলে সেটি নাকচ হয়। এরপর হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। ২০ অক্টোবর হাইকোর্ট তাকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেয়। জামিনে মুক্তির পর স্ত্রী কন্যাকে নিজের জিম্মায় নিতে চাঁদপুরের বিচারিক আদালতে আবেদন করেন কামাল।
সে আবেদন না-মঞ্জুর হওয়ার পর হাইকোর্টে যান তিনি। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালিকা) তত্ত্বাবধায়ককে কিশোরী ও তার সন্তান আদালতে নিয়ে আসতে নির্দেশ দেয়।
