হিমেল বাতাস উত্তরাঞ্চলে

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৩১ এএম

তিন দিন ধরে দেশের উত্তরাঞ্চলে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশায় সারাদিনেও দেখা মিলছে না সূর্যের। হিমেল বাতাসে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষজন। শীতের মধ্যে কাজ করতে বের হয়ে পর্যাপ্ত কাজ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের লোকজন। গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

হাকিমপুর (দিনাজপুর) : গত তিন দিন ধরে দিনাজপুরে দেখা মেলেনি সূর্যের। হিমেল বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশা শীতের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্ক ও শিশুরা। কাজে বেরিয়ে বিপদে পড়ছে দিনমজুর মানুষজন।

হাকিমপুরের রহিম মিয়া বলেন, তিন দিন ধরে হঠাৎ করে এমন শীত পড়েছে যে ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। ঘর থেকে বের হলেই তীব্র শীত লাগছে, এর কারণে জ¦র-সর্দি-কাশিসহ নানা ধরনের অসুখ হচ্ছে। বেশি সমস্যা হচ্ছে ছোট বাচ্চাদের। বিকেলের পর থেকে শীতের মাত্রা বাড়তে থাকে, সকাল পর্যন্ত একই অবস্থা থাকে।

হিলি বাজারে সবজি বিক্রি করতে আসা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অতিরিক্ত শীতের কারণে গা-হাত-পা কাঁপন ধরে।  এরপরও আমাদের পেটের দায়ে কাজ করতেই হবে। যার জন্য শীতের মধ্যেও ভোরবেলায় উঠে শাকসবজি তুলে পানি দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে বিক্রি করে বেড়াই।

শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, সকালে কোচিং করতে যেতে হয়, কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে বেশ শীত পড়েছে। এতে করে আমাদের যেতে খুব কষ্ট হয়।

ষাটোর্ধ্ব নুরজাহান বেওয়া বলেন, কী আর বলব শীতের কথা, গত কয়েক দিন ধরে যে শীত পড়েছে তাতে করে বাঁচাই দায়। একে তো ডায়াবেটিস যার কারণে সকালে হাঁটতে হয় কিন্তু এতে খুব কষ্ট হয়। এর ওপর শীতের কারণে সর্দি-কাশি তো লেগেই আছে। আমরা বয়স্ক মানুষ খুব সমস্যা আমাদের।

দিনমজুর ইসাহাক আলী বলেন, যে শীত পড়েছে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু বের না হয়ে উপায় নেই, কাজ না করলে ভাত তো খাওয়া হবে না। আবার শীতের কারণে কাজও তেমন নেই।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আজকে (গতকাল শুক্রবার) দিনাজপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

ঠাকুরগাঁও : দ্বিতীয় দফায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় নাকাল হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন।

কৃষি বিভাগ গতকাল সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে বলে নিশ্চিত করেন উপপরিচালক আফতাব হোসেন।

সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে হেডলাইট জ¦ালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এ শীতে দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল, দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষ। দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও বিকেল হতে না হতে তাপমাত্রা কমে আসে। তাই বেড়ে যায় শীতের তীব্রতা।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তিন দিন ধরে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। হাড় কাঁপানো শীতে একটু উষ্ণতার পরশ নিতে নিম্ন আয়ের মানুষরা ভিড় করছে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। পুরাতন কাপড় বিক্রেতা জুলমত আলী বলেন, আমাদর এখানে নিম্ন আয়ের মানুষরাই বেশি আসে। টাকাও কম লাগে, শীত থেকেও রক্ষা পায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত