সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের নানা রকম প্রচারণায় সরগরম এখন ফেনী শহর। লিফলেট বিতরণ, পোস্টার সাঁটানো, ব্যানার টানানো, গানে গানে তৈরি করা প্রার্থীদের প্রচারণার মাইকিং আর সভা-সমাবেশে চতুর্দিকে নির্বাচনী আমেজ নেমে এসেছে পৌরসভাজুড়ে।
সরকারদলীয় প্রার্থীরা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও নির্বাচিত হলে ফেনীকে মডেল পৌরসভায় রূপান্তরিত করা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ ও ভোটারদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন।
তবে ভোটারদের কথা, সর্বাধিক বিশ্বস্ত, যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকেই ফেনী পৌরসভার মেয়র পদে তারা ভোট দেবেন। এর আগে ফেনীর স্থানীয় নির্বাচনে অনিয়মের ইতিহাস ভাঙতে নতুন করে ভোটারদের মাঝে উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা গেছে। মাঠ বিশ্লেষণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে খুব আশাবাদী ভোটাররা।
ফেনী পৌরসভায় এবার মেয়র পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী। এর আগে তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আলাল উদ্দিন আলাল। তিনি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং এর আগেও তিনি মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেন।
এ ছাড়া মাঠে প্রচার-প্রচারণায় থেমে নেই জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ইয়ামিন হাসান ইমন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সিংহ প্রতীকের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী গোলামুর রহমান আজম।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যত প্রার্থীই থাকুক, ফেনীতে মূলত নৌকা ও ধানের শীষের মাঝেই লড়াই হবে। বর্তমান সরকারের সময়ে ফেনী পৌরসভায় মেয়র পদে নিজাম উদ্দিন হাজারী (বর্তমান এমপি) ও হাজী আলাউদ্দিনের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকার প্রার্থী স্বপন মিয়াজীর পাল্লা ভারী রয়েছে। নবীন রাজনৈতিক নেতা হলেও নতুন ভোটার ও তরুণদের জনপ্রিয়তাই তার বিজয়ের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, বিএনপি-জামায়াত-অধ্যুষিত ফেনীতে বিএনপি প্রার্থী আলালেরও নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কম ভোটের ব্যাবধানেই নিশ্চিত হবেন ফেনী পৌরসভার আগামী দিনের মেয়র।
নির্বাচন অফিস জানায়, ফেনী পৌরসভায় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে আসছে ৩০ জানুয়ারি ভোট। পৌরসভাটিতে ইতিমধ্যে ১০ জন কাউন্সিলর ও ৫ জন মহিলা কাউন্সিলর একক প্রার্থী হওয়ায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এখন ১৮ ওয়ার্ডে মেয়র, ৮ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও ৩ ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ করা হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ফেনী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, এবার ফেনী পৌরসভায় ৯১ হাজার ৬৬২ জন ভোটার রয়েছেন।
