সাকিবের পরামর্শেই বদলে গেলেন মিরাজ

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০১:০৮ এএম

উইন্ডিজকে পেলে মেহেদী হাসান মিরাজ ফর্মে থাকেন। গতকালের ম্যাচের আগে ওয়ানডেতে পাওয়া ৪১ উইকেটের সর্বোচ্চ ১৩টি এই প্রতিপক্ষের সঙ্গে। এবার উইন্ডিজকে পেয়ে সিরিজ শুরুর আগে বাজে সময় দূর করার কথা বলেছিলেন এই অফস্পিনার। প্রথম ম্যাচ উইকেটের সাফল্য বলতে ছিল একটি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই ইচ্ছাপূরণ হলো মিরাজের। ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে গড়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। তিন বছর পর আবারও ৪ উইকেটের দেখা পেলেন এ অফস্পিনার। মিরাজের এমন বদলে যাওয়া পারফরম্যান্সের কারণ কিন্তু সাকিব আল হাসান। ভালো করার জন্য মিরাজকে ছোট্ট একটা টোটকা দিয়েছেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। সেই মতো বল করেই হাতে-হাতে ফল পাওয়া মিরাজের।

ফর্মহীনতায় ভোগা মিরাজ সিরিজের আগে দলে জায়গা হারানোর শঙ্কায় ছিলেন। তার বদলি হিসেবে অফস্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মাহাদি হাসানকে দলে রাখা হয়। নিকট-অতীতে বল-ব্যাটের পারফরম্যান্সে মিরাজের চেয়ে এগিয়ে মাহাদি। তাই সেরা একাদশে মিরাজের জায়গাটা নড়বড়ে হয়ে ওঠে। এই সময়ে একমাত্র পারফরম্যান্স দিয়েই মাহাদির সঙ্গে লড়ার উপায় ছিল মিরাজের সামনে। উইন্ডিজের বিপক্ষে গতকাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণ বোলিং করে নিজের জায়গা নিয়ে ওঠা প্রশ্নটাকে রুখলেন মিরাজ।

সবশেষ বলার মতো পারফরম করেছিলেন মিরাজ ২০১৮ সালে। সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল উইন্ডিজ। ওয়ানডেতে মিরাজের আগের সেরা বোলিং ফিগারটিও (৪/২৯) ছিল সেই সিরিজে। ওই সিরিজেই ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে মোট ১২ উইকেট নেন। মাঝে বিশ্বকাপসহ পুরো ২০১৯ সাল ওয়ানডেতে হতাশায় কেটেছে মিরাজের। ২০২০-এ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ভালো করতে পারেননি। এদিকে এ সময়ে টেস্ট দলেও জায়গা হারান। তাই এ সিরিজের পর জাতীয় দলে থাকতে হলে পারফরম ছাড়া উপায় ছিল না মিরাজের। অবশেষে প্রিয় প্রতিপক্ষকে পেয়ে কাক্সিক্ষত ফর্ম ফেরালেন এ অফস্পিনার। সব মিলিয়ে তিন বছর পর মিরাজ দুটির বেশি উইকেট পেলেন। 

দীর্ঘদিন পর ফর্মে ফেরার আসল রহস্যও জানালেন মিরাজ। সাকিব আল হাসানের পরামর্শই তাকে প্রথম ওয়ানডের হতাশা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে, ‘আমি জুনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে সাকিব ভাইয়ের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। প্রথম ম্যাচে কিন্তু আমি ভালো বোলিং করতে পারিনি। সাকিব ভাই দুটো কথা বলেছেন, সেই দুটি কথাই আমার অনেক কাজে লেগেছে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে লেগ মিডলে বোলিং করার পরামর্শ দিয়েছিলেন সাকিব ভাই। তার কথা শুনে আমি সেটাই করে সাফল্য পেয়েছি। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো ম্যাচে অনেক সাহায্য করে।

আজকে যখন তিন ওভারে কোনো উইকেট পেলাম না। তখন রিয়াদ ভাই আমাদের ফিল্ডিংয়ে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমি তামিম ভাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ফিল্ডিং পরিবর্তন করে পরের বলেই কিন্তু উইকেট পেয়েছি।’

প্রথম ম্যাচে আশানুরূপ পারফরম না পাওয়ায় চাপে ছিলেন মিরাজ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও হতাশাজনক কিছু হলে একাদশে জায়গা হারাতে হতো থাকে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। তবুও দলের ভালোর জন্য এই প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানাচ্ছেন মিরাজ, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা থাকবেই। আমি যদি এখানে ভালো না করি আরেকটা খেলোয়াড়ের জন্য আমাকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। এখন প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। খেলোয়াড়দের সেই প্রতিযোগিতায় লড়তে হচ্ছে। কিন্তু আমার কাছে প্রতিযোগিতাটা আমার নিজের সঙ্গেই। আমি সব সময় চেষ্টা করি নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার।’

সিরিজ জয়ে নেতৃত্বের শুরু পেয়ে দারুণ খুশি তামিম ইকবাল। তৃতীয় ওয়ানডে নিয়মরক্ষার লড়াই বলে ওই ম্যাচে একাদশ বদলের ইঙ্গিতও দিয়ে রাখলেন তামিম, ‘ড্রেসিংরুমে দারুণ প্রতিযোগিতা চলছে। সবাই ভালো করার জন্য একাদশে সুযোগ পাওয়ার জন্য ক্ষুধার্ত। দলের সবার সুযোগ পাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। যারা একাদশে সুযোগ পায়নি তারাও ভালো করার যোগ্য। আমি নিশ্চিত যে তৃতীয় ওয়ানডেতে একাদশে কিছু পরিবর্তন আসবে। যারাই আসুক আশা করি ভালো করবে।’

টানা হারে সিরিজ খুইয়ে হতাশ উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ। তার আঙুল একসঙ্গে উইকেট হারানো ও সময়মতো জুটি গড়তে না পরায়, ‘অবশ্যই এভাবে হারাটা আমাদের জন্য খুব হতাশাজনক। আজকের উইকেটটা আগের চেয়ে অনেক ভালো ছিল। এজন্য আমরা ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের বোর্ডে রান তোলার দরকার ছিল যা আমরা পারিনি। আগের মতোই বলছি বাংলাদেশ স্পিনারদের সামলানো চ্যালেঞ্জিং হবে। আমরা গুচ্ছ আকারে উইকেট হারাচ্ছিলাম এবং জুটিও গড়তে পারিনি। এটাই আমাদের ব্যর্থতার কারণ। তবে কিছু ইতিবাচক দিকও আছে, ওটলে অভিষেকে ভালো ব্যাট করেছে আবার পাওয়েল আজ আমাদের স্কোরটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়েছে। আর আকিল টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ভালো বল করল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত