ধানের শীষের এজেন্টের দেখা নেই কেন্দ্রে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:১৮ পিএম

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়াসহ নানা অভিযোগের মধ্য দিয়ে চলছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে তুলনামূলক কম।

সকাল থেকে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে কোথাও ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের এজেন্ট দেখা যায়নি।

এসব কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসাররা বলেছেন, ধানের শীষের এজেন্ট কেন্দ্রে আসেননি।

অন্যদিকে শাহাদাত অভিযোগ করেছেন, সব কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসন কারও কাছ থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।’

সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জামাল খান ওয়ার্ডের ছালে জহুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটি মহিলা ভোটারের জন্য হলেও ভোটকেন্দ্রের প্রবেশ পথে বিপুলসংখ্যক পুরুষের অবস্থান। ভেতরে ভোটার নেই বললেই চলে।

কেন্দ্রটির ৫ নম্বর বুথে গিয়ে দেখা যায়, ৩২৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র সাতজন। এই বুথে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে নৌকা ছাড়া অন্য কারও এজেন্ট দেখা যায়নি।

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম।

তিনি জানান, মোট ২ হাজার ২৯৯ ভোটারের মধ্যে প্রথম এক ঘণ্টায় ভোট দিয়েছেন মাত্র ২৮ জন।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আরও জানান, ধানের শীষের কোনো এজেন্ট কেন্দ্রে আসেনি।

একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ রোডস্থ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভোটকেন্দ্রে।

কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে আসা ভোটার আবদুল হাকিম অভিযোগ করেন, ভোট দেওয়ার জন্য সব প্রক্রিয়া শেষ করে পর্দা ঘেরা বুথে ঢোকার পর দেখেন সেখানে অন্যজন বাটন চেপে তার ভোটটি দিয়ে দিয়েছেন। এই কেন্দ্রেও কোনো বুথে ধানের এজেন্ট ছিল না।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আ হ ম মেজবাহ উদ্দিন জানান, ধানের শীষের দুজন এজেন্ট এসে আবার চলে গেছেন। তাদের আর কোনো এজেন্ট আসেননি। ওই কেন্দ্রে সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৮০ জন ভোট দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ভোট কক্ষে একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

একইভাবে সকালে নগরীর আরও কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সকাল ১০টা নিজের ভোট দেওয়ার আগে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘আমার কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নামে নগ্নতা চলছে। প্রশাসন আর রাষ্ট্রযন্ত্র মিলে একাকার হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে আমার এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যারা কেন্দ্রে গিয়েছে তাদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫ জন আহত হয়েছে। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাদের এজেন্ট আসেনি কেন্দ্রে। তারা সবসময় এমন অভিযোগ করে থাকে। এটা তাদের নিয়ম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত