লালকেল্লায় কৃষকদের উসকানিতে ‘বিজেপিপন্থী’ অভিনেতা!

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০২:২২ পিএম

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজধানী দিল্লিতে ট্রাক্টর নিয়ে ঢুকে পড়েছিল কৃষকেরা। পুলিশ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর বিশাল এলাকায়। এতে এক কৃষক নিহত হন।

পুরো ঘটনার জন্য পাঞ্জাবের বিজেপিপন্থী এক অভিনেতার দিকে আঙুল উঠছে। সহিংসতার জন্য তিনি কৃষকদের উসকানি দিয়েছিলেন বলে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে। 

ঐতিহাসিক লালকেল্লায় কৃষকেরা পতাকা উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে বিজেপি সরকার। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহার না করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে বিরোধী দলের নেতাদের অভিযোগ।

সংবাদ প্রতিদিন ও আনন্দবাজার জানায়, মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পেছনে উঠে এসেছে পাঞ্জাবি গায়ক-অভিনেতা দীপ সিধুর নাম। গোটা ঘটনায় ষড়যন্ত্রের ছাপ দেখছেন আন্দোলনরত কৃষক ইউনিয়নের নেতারা।

ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন (বিকেইউ) নেতা রাকেশ টিকটেত দাবি করেছেন, ‘আমরা লালকেল্লায় যেতে চাইনি। সহিংসতা যারা ছড়িয়েছে তারা রাজনৈতিক দলের সদস্য। আমরা তাদের শনাক্ত করতে পেরেছি। কৃষকদের আন্দোলনকে কলুষিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এরপরই বিকেইউ’র হরিয়ানা ইউনিটের প্রধান গুরনাম সিং চাড়ুনি দাবি করেছেন, ‘পাঞ্জাবি গায়ক দীপ সিধুর নেতৃত্বেই কৃষকদের একটি দল লালকেল্লায় গিয়েছিল। সে-ই সহিংসতার উসকানি দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের উত্যক্ত করেছে।’

রাতে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত স্বরাজ ইন্ডিয়ার নেতা যোগেন্দ্র যাদবও দাবি করেছেন, ‘দীপ সিধু কৃষকদের তাণ্ডবের সময় লালকেল্লায় উপস্থিত ছিল। আমরা শুরু থেকেই ওর বিরোধিতা করে এসেছি। গোটা ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত।’

ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানায়, পাঞ্জাবের মুখ্‌তসর জেলায় জন্ম নেওয়া সিধু আইন পেশা নিয়ে পড়াশোনা করলেও মডেলিং ও অভিনয়ে যোগ দেন। পাঞ্জাবি সিনেমা বেশ কয়েকটি সিনেমাও করেছেন তিনি। ২০১৯ সাল থেকে সিধুকে রাজনীতির আঙিনায়ও দেখা যেতে শুরু করে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিধুর একের পর এক ছবি পোস্ট হতে থাকে। একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী অভিনেতা সানি দেওলের প্রচারসঙ্গী হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সিধু। গুরুদাসপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন সানি।

অন্য একটি টুইটে সানি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশেও সিধু রয়েছেন। ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী সেই ছবিটি পোস্ট করেছেন। একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রয়েছেন সিধুর পাশে। এই দু’টি ছবিই টুইট করেছেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও।

বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ওঠাবসার মাঝেই গত বছর কৃষক আন্দোলনেও শামিল হন সিধু। ২৫ সেপ্টেম্বর দিল্লি-হরিয়ানা সীমানায় শম্ভু এলাকায় তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন বহু সমাজকর্মী, শিল্পী ও অভিনেতারা। ওই বিক্ষোভে কৃষকদের সঙ্গে দেখা যায় সিধুকেও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফলোয়ারদের উদ্দেশেও কৃষক আন্দোলনের পক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য করেন তিনি। তবে সে সময় থেকেই এই আন্দোলনে সিধুর শামিল হওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিল বহু কৃষক ইউনিয়ন। সামাজিক মাধ্যমে মোদি-শাহের সঙ্গে একসঙ্গে থাকা সিধুকে ‘আরএসএসের এজেন্ট’ বলেও তকমা দেন তারা।

সিধুর ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারী স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রধান যোগেন্দ্র যাদব। তিনি বলেন, ‘দীপ সিধু মাইক হাতে কীভাবে লালকেল্লায় পৌঁছলেন, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।’

দিল্লিতে সিধুর ভূমিকায় বিজেপি তথা আরএসএসের হাত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন কৃষক ইউনিয়নের নেতারা। ৪১টি কৃষক ইউনিয়নের মোর্চা-বিকেইউ’র প্রধান গুরনাম সিংহের অভিযোগ, ‘দীপ সিধুই আন্দোলনকারীদের উসকানি দিয়েছিলেন। তিনিই তাদের বিপথে চালিত করেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত