বারবার কোয়ারেন্টাইন বিধি ভঙ্গকারীদের জন্য জার্মানিতে কারাগার চালু হয়েছে। দেশটির কর্র্তৃপক্ষ উত্তর জার্মানির শহর জুভেনাইলের একটি কিশোর সংশোধন কেন্দ্রকে ‘করোনা কারাগার’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে খবর দিয়েছে মিরর।
সেøশভিগ-হলস্টাইন রাজ্যের নোয়েমুনস্টারে কাঁটাতারের বেষ্টনী দেওয়া ছয়টি ঘরের এ কারাগার চলতি মাসেই চালু হয়। এখানে বন্দিদের আইসোলেশন নিশ্চিতে তালা দিয়ে রাখা হয় এবং ৪০ জন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাদের দেখভাল করবেন।
স্লেশভিগ-হলস্টাইন রাজ্যের নোয়েমুনস্টার ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সদস্য শুলজ জানান, সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে থাকার কথা। করোনা নিয়ন্ত্রণে এটি খুবই জরুরি। কেউ এ নিয়ম না মানলে অন্যদের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবেন তিনি। আর নিয়ম অমান্যকারীদের এই জেলখানায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কারা কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনা কারাগার প্রচলিত বন্দিশালার মতো নয়। এখানে টেলিভিশন, ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। এখানকার বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ব্যবস্থা করা হবে। আরামদায়ক বিছানা, করিডরে হাঁটাহাঁটি সব মিলে নিজের বাড়ির সব স্বাচ্ছন্দ্য মিলবে কারাগারে। তফাত একটাইথ এখানে মানুষকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঢোকানো হবে এবং তারা রক্ষীদের কথা মানতে বাধ্য হবেন।
তবে কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভাঙা কাউকে করোনা কারাগারে পাঠাতে আদালতের নির্দেশনা লাগবে। একজন ব্যক্তি নিয়মিত কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভাঙছেন, সে প্রমাণ থাকতে হবে। এরপর পুলিশ ওই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে প্রথমে তাকে জরিমানা করতে পারে। তারপরই আদালতের নির্দেশে তাকে করোনা কারাগারে পাঠাতে পারবে।
গত বছরের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন নিয়ম ভাঙার জন্য জার্মানির ব্রান্ডেনবুর্গ রাজ্যে দুই শতাধিক মানুষের বিচার হয়েছে। সে সময় তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তবে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করোনা কারাগার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, এভাবে আটকে রাখা একধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনি। ফলে দেশটির অনেক রাজনৈতিক দলও করোনা কারাগারের বিপক্ষে সোচ্চার হয়েছে। অবশ্য জার্মানির ১৬টি রাজ্যের মধ্যে টুরিঙ্গিয়া, সারলান্ডসহ কয়েকটি রাজ্যের প্রশাসন জানিয়েছে, এমন কারাগার তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
নোয়েমুনস্টার ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সদস্য শুলজ আরও বলেন, ‘করোনা কারাগারে এখনো কোনো বন্দি রাখা হয়নি। বন্দিদের রাখার পরই এর কার্যকারিতা বোঝা যাবে।’
