দেশে দাম না পেয়ে বাঁধাকপি যাচ্ছে সিঙ্গাপুর

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২১, ০৩:২৮ এএম

দাম না পেয়ে এতদিন বাঁধাকপি জমিতেই ছিল। উত্তোলন খরচও উঠবে না আশঙ্কায় কপি জমিতেই রেখে দিয়েছিলেন কৃষকরা। এখন তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন জমি থেকে কপি তুলতে এবং তা সঠিকভাবে বস্তাবন্দি করতে। কারণ মেহেরপুরের বাঁধাকপি এবার সিঙ্গাপুর যাচ্ছে।

জেলার গাংনী উপজেলার সাহারবাটি, হিজলবাড়ীয়া, হিন্দা কোদাইলকাটির বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে আছে বাঁধাকপি। যে বাঁধাকপি এখন সিঙ্গাপুরে রপ্তানির উদ্দেশ্যে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এগ্রোফ্রেশ এক্সপোর্টার্স মেহেরপুরের মাঠ থেকে কপি মোড়কজাত করে নিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে এগ্রোফ্রেশ এক্সপোর্টার্স কেন্দ্রের ম্যানেজার রুবেল আহমেদ জানান, গাংনী উপজেলার ৫৫ জন কৃষক শত শত বিঘা জমিতে রপ্তানি উপযোগী বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করেন। মূলত তাদের সঙ্গে চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে এই অঞ্চলের বাঁধাকপি প্রথমে সিঙ্গাপুর, পরে পর্যায়ক্রমে বিশে^র আরও বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হবে। বিঘাপ্রতি ৫৫ হাজার টাকা চুক্তিতে চুক্তিবদ্ধ চাষিদের হাতে আগেই রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানটি টাকা তুলে দিয়েছিল।

জানা গেছে, এবার মেহেরপুরে অতিরিক্ত বাঁধাকপির চাষ হওয়ায় বাজারে কপির দাম একেবারেই নেই বললেই চলে। চার থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে মেহেরপুরে কপি বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা সেই ক্ষতির দিক বিবেচনায় নিয়ে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি কপির মান যাচাই করে আরও বেশি সংখ্যক কৃষকের কাছ থেকে বিষমুক্ত নিরাপদ বাঁধাকপি নেওয়া শুরু করেছে। ফলে কপি নিয়ে কৃষকের লোকসান চিন্তা এখন দূর হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এবার ১০০ একর জমির বাঁধাকপি সিঙ্গাপুরে পাঠাবে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আগামী বছর আরও তিনগুন বেশি সবজি এই জেলা থেকে বিদেশে রপ্তানি করা হবে। এ বছর মেহেরপুর জেলা থেকে ১২ কোটি টাকার সবজি রপ্তানি করা হবে। এই পরিমাণকে আরও বৃদ্ধি করে মেহেরপুরের বিষমুক্ত স্বাস্থ্য নিরাপদ সবজি বিশ^জুড়ে ছড়িয়ে দিতে এবার মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এগ্রোফ্রেশ এক্সপোর্টার্স নামের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশিয়া, আমেরিকা, লন্ডন, মধ্যপ্রাচ্যসহ ১২টি দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে।

চাষি একরামুল হক জানান, গতবার দাম ভালো পাওয়ায় এবার ৩২ বিঘা জমিতে বাঁধাকপির চাষ করি। কিন্তু এবার কপির দাম নেই। অনেক কৃষক জমি থেকে কপি তুলতেই লোকসান মনে করে জমিতেই ফেলে রেখেছিল। হঠাৎ কপি রপ্তানিকারক এই প্রতিষ্ঠানটি কপি কেনা শুরু করায় চাষির কপালের দুশ্চিন্তার ছাপ মুছে গেছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, দেশের সবজি বিদেশে পাঠানোর উপযোগী করে ফসলকে লাভজনক ও ঝুঁকিমুক্ত করতে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এগ্রোফ্রেশ এক্সপোর্টার্স-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ চাষিদের জমির মাটি পরীক্ষা থেকে শুরু করে ফসল তোলা পর্যন্ত কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করা হচ্ছে। সবজির ভালো দাম পাওয়ায় আগামী বছর এই লক্ষ্যমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত