ঢাকা-দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। ১৬৪ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে উদ্বোধনী ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। ফ্লাইটে যাত্রী সংখ্যা ছিল ১৪০ জন।
সোমবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবনে কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইটটির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য-অপারেশনস অ্যান্ড প্লানিং এয়ার কমোডর মো. খালিদ হোসাইন, সদস্য-ফ্লাইট স্টান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী এম জিয়া উল কবির, পরিচালক-হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ক্যাপ্টেন শিকদার মেজবাহউদ্দিন আহমেদ।
করোনা পরিস্থিতিতে সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে।
প্রতি সোম, বৃহস্পতি, শুক্র ও রবিবার ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে দুবাই এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় রাত ১০টা দুবাই পৌঁছাবে। আবার দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং পরদিন সকাল ৬টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছাবে।
প্রতি মঙ্গলবার ঢাকা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে দুবাই এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় রাত ৯টা দুবাই পৌঁছাবে। আবার দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং পরদিন ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। প্রতি বুধবার ঢাকা থেকে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে দুবাই এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে দুবাই পৌঁছাবে। আবার দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং পরদিন ভোর ৩টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
এছাড়া প্রতি শনিবার ঢাকা থেকে বিকেল ৫টায় দুবাই এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে দুবাই পৌঁছাবে। আবার দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং পরদিন ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
ঢাকা-দুবাই রুটে ওয়ানওয়ের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া ৫৪,৯৯৯ টাকা এবং রিটার্ন ভাড়া ৭৩,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া দুবাই-ঢাকা রুটে ওয়ানওয়ের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া ১,৬৭০ এইডি এবং রিটার্ন ভাড়া ২,৭৫৩ এইডি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভাড়ায় সকল ধরনের ট্যাক্স ও সারচার্জ অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া বিজনেস ক্লাসের জন্য ঢাকা-দুবাই রুটে ওয়ানওয়ে ৭৯,২০০ টাকা এবং রিটার্ন ভাড়া ১৫৩, ৫২৬। অপরদিকে দুবাই-ঢাকা রুটে বিজনেস ক্লাসের ওয়ানওয়ে ভাড়া ২,৬২০ এইডি এবং রিটার্ন ভাড়া ৪,৪৫৩ এইডি।
১৬৪ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে দুবাই রুটের ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হবে। বর্তমানে ইউএস-বাংলার বিমান বহরে ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ছয়টি ব্র্যান্ড নিউ এটিআর ৭২-৬০০সহ মোট তেরোটি এয়ারক্রাফট রয়েছে।
দুবাই ছাড়াও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গন্তব্য মাসকাট ও দোহা, প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেন্নাই ও কলকাতা এবং চীনের অন্যতম গন্তব্য গুয়াংজুতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গন্তব্য মালে ও কলম্বো রুটে ফ্লাইট শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে ইউএস-বাংলার। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রুট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশালে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস খুব শিগগিরই আবুধাবিতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটক ছাড়াও দুবাই, আবুধাবিসহ আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে দশ লাখের অধিক প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছে।
ঢাকা- দুবাই রুটের ফ্লাইট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও অন্যান্য বিমান সংস্থার কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
