কৃষকদের ঠেকাতে দিল্লিতে নজিরবিহীন আয়োজন

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:২৮ এএম

বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ঠেকাতে দিল্লিতে ভারত সরকারের সতর্কতা আগের চেয়ে জোরদার হয়েছে। নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন সব পদক্ষেপ।

দেশটির গণমাধ্যম এভাবে বর্ণনা দিচ্ছে, রাস্তা জুড়ে থরে থরে সাজানো কংক্রিটের ব্যারিকেড। ৩-৪ স্তরে কাঁটাতারের বেড়া। তার ঠিক পেছনেই আবার কংক্রিটের ব্যারিকেডের মাঝে ঢালাইয়ের কাজ চলছে। প্রতিটি ব্যারিকেডের ঠিক পরে রাস্তায় পুঁতে রাখা হয়েছে সার সার গজাল ও পেরেক।

তিন-চার স্তরের ব্যারিকেডের পেছনে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করানো পুলিশের গাড়ি ও বাস। তার সঙ্গে পুলিশের সতর্ক টহল। সিঙ্ঘু, টিকরি ও গাজিপুর-দিল্লির ৩ সীমানাকে এভাবেই নিরাপত্তার দুর্গে পরিণত করে ফেলা হয়েছে। দেখে মনে হতে পারে, এ যেন দুই বিবদমান দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত।

গাজিপুর-মেরঠ হাইওয়ে ধরে উত্তরপ্রদেশ থেকে কৃষকেরা দিল্লিতে যাতে ঢুকতে না পারে, তার জন্য সেই হাইওয়ের ওপর ৪ স্তরের নিরাপত্তার দেয়াল তোলা হয়েছে। দিল্লি-হরিয়ানা সীমানায় হাইওয়েতে অস্থায়ী ইট, সিমেন্টের দেয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আরও বলছে, গাজিপুর সীমানাকে দেখে মনে হবে যেন সেখানে পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। কয়েকশ’ পুলিশ এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যরা সর্বক্ষণ নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। নজরদারি চালাতে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

টিকরি সীমানাতেও একই ছবি ধরা পড়েছে। বেশ কয়েক স্তরে নিরাপত্তার দেয়াল তোলা হয়েছে। রাস্তার ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে পেরেক ও গজাল। যাতে কৃষকেরা ট্র্যাক্টর নিয়ে এগোতে গেলে সেখানেই আটকে যান।

২৬ জানুয়ারির ঘটনার পর আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না দিল্লি প্রশাসন। ওই দিন ব্যারিকেড দেওয়ার পরেও তা ভেঙে ফেলেছিল আন্দোলনকারী কৃষকেরা। ঢুকে পড়েন লাল কেল্লায়। শনিবার থেকে ভারত জুড়ে ‘চাকা জ্যাম’ এবং আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলো। ২৬ জানুয়ারির ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে ওই ৩ সীমানাকে। এই ৩ জায়গাতেই দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা।

প্রশাসন যখন নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর, তার ঠিক উল্টো ছবি ধরা পড়ল আন্দোলনকারী কৃষক শিবিরে। তারা পুরোপুরি নির্বিকার। রাস্তার ওপর সারি সারিভাবে বসে রয়েছেন। সেখানেই খাওয়াদাওয়া সারছেন। রাস্তার ওপরই মাদুর, চাটাই বিছিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন আন্দোলনের। বৃহৎ আন্দোলনের জন্য কৃষকেরা ট্রেনে চেপে দিল্লিতে আসা শুরু করেছে। কিন্তু তাদের অভিযোগ, দিল্লিগামী ট্রেনগুলোকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত