'পুলিশের গাড়িতে তুলে নেয়ার' পর থানা ঘেরাও, আগুন

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:২৭ পিএম

মাদারীপুরের কালকিনিতে পুলিশের গাড়িতে স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজকে তুলে নেয়ার পর থানা ঘেরাওসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ সুপারের গাড়িতে ওই প্রার্থী অবস্থান করছেন জানালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংর্ঘষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্বজন ও সমর্থকরা জানায়, শনিবার দুপুরে কালকিনি পৌর এলাকার পালপাড়ায় নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। এসময় তার ফোনে একটি কল আসে। তাৎক্ষণিক সেখানে কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসির উদ্দিন মৃধা গাড়ি নিয়ে হাজির হন। পরে সেখান থেকে সবুজকে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে সবুজকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এর প্রতিবাদে কালকিনি থানা ঘেরাও করে সবুজের সমর্থকরা। তারা টায়ার জ্বালিয়ে স্লোগান দেন। এতে কালকিনি-ভুরঘাটা ও কালকিনি-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে সাংবাদিকরা বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া ঘাটের ফেরি ক্যামেলিয়ায় হাজির হন। ফেরির ভিআইপি কেবিনে উপস্থিত পুলিশ সুপার মো. মাহবুব হাসানের সঙ্গে সবুজকে দেখতে পাওয়া যায়। তবে পুলিশ সুপার বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে জানান। এরপর পুলিশ সুপারের গাড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজকে উঠতে দেখা যায়।

সাংবাদিকরা জানান, মাদারীপুর পুলিশ সুপার মো. মাহবুব হাসান তার সঙ্গে ভিআইপি কেবিনে থাকা ব্যক্তির (সবুজ) সঙ্গে কথা বলতে সাংবাদিকদের  নিরুৎসাহিত করেন। ওই ব্যক্তি প্রার্থী কি না জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ সুপার বলেন, ‘যা হচ্ছে নিজে থেকেই হচ্ছে (উইলিংলি)। কাউকে কোনো কিছু জোর করে করা হচ্ছে না। আপনাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। এটি সংবাদ করার মতো কোনো বিষয় না। প্রার্থী তো কোনো অভিযোগ করেননি। তার পরিবারেরও কোনো অভিযোগ নেই এবং এলাকায় আন্দোলনের কথা বললেও তা থেমে গেছে। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন’।

রোববার রাতের দিকে সবুজের পরিবার জানায়, ফোনে সবুজ পুলিশ সুপারের সঙ্গে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফোনে সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ তার পরিবারের সদস্যদের ফোনে বলেন, ‘আমি ক্যামেলিয়া ফেরির ভিআইপি কেবিনে পুলিশ সুপারের সঙ্গেই ছিলাম। ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে ভিড়লে কেবিন থেকে নামিয়ে পুলিশ সুপারের গাড়ির ডান দিক দিয়ে উঠানো হয়। আমি এখনও পুলিশ সুপারের সঙ্গেই আছি’।

পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর সবুজকে আটক করা হয়েছে ধরে নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ করে তার সমর্থকরা। পরে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। ভাংচুর করা হয় বেশকিছু দোকানপাট।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক।

এ বিষয়ে কালকিনি থানার ওসিসহ কোনো পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বারবার যোগযোগ করা হলেও তাদের কারো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন।

এতে সবুজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম এ হানিফ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত