বাগেরহাটে প্রথম ধাপের করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক ফিতা কেটে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
পরে জেলা প্রশাসক নিজে নির্ধারিত বুথে গিয়ে প্রথম করোনা টিকা গ্রহণ করেন। এরপর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবিরসহ স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা টিকা নেন।
প্রথম ধাপের এই টিকা পাবেন সম্মুখসারির করোনা যোদ্ধারা। তার মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনের কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা। আর যাদের বয়স ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে তারাই প্রথম ধাপে টিকা নিতে পারবেন। সরকারের দেয়া ওয়েবসাইটে আবেদনের পর নিবন্ধিতরা নির্ধারিত তারিখে নির্দিষ্ট বুথে গিয়ে করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ করবেন।
বাগেরহাট জেলার ১১০টি বুথে প্রথম দিনে এক হাজার জনকে টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
২২০ জন টিকা প্রয়োগকারী অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৪৪০ জন স্বেচ্ছাসেবী এই টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে। বাগেরহাট জেলায় মোট ৪৮ হাজার ডোজ টিকা প্রয়োগ করবে স্বাস্থ্য বিভাগ।
টিকা গ্রহণের পর বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রথম দিনে আমি, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন টিকা গ্রহণ করে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছি। টিকা গ্রহণের পর আমার অন্যরকম মনে হচ্ছে না। আমি স্বাভাবিক আছি। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে নিবন্ধন করে যত দ্রুত সম্ভব সবাইকে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, বাগেরহাট জেলায় প্রথম দিনে এক হাজার জনকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সদর হাসপাতালে দেড়শ জনকে, পুলিশ হাসপাতালে ৫০ জনকে এবং ৮টি উপজেলায় প্রতিটিতে একশজনকে করে মোট আটশো জনকে টিকা দেয়া হবে।
প্রথম দিনেই আমি করোনা প্রাণঘাতী করোনা রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন নিতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।
