লক্ষ্য পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

এ মাসে ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা যশোরের চাষিদের

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:৪৩ এএম

যশোরের গদখালীর ফুলচাষিরা এবারের পহেলা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এ মৌসুমে ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে ১৫ কোটি টাকার ফুল। অনুকূল আবহাওয়ায় ফুলের ফলন ভালো হওয়ায় দামও ভালো পাওয়ার আশা করছেন ফুলচাষিরা।

গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জারবার, গ্লাডিওলাস, জিপসিসহ প্রায় ১১ প্রজাতির ফুল চাষ হচ্ছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করা হয়েছে। সারা বছর বাজারে ফুলের সরবরাহ থাকলেও পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারি এলে সারা দেশে ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। বিশেষ এ তিনটি দিবসকে কেন্দ্র করে এ বছর ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন স্থানীয় ফুলচাষি ও বিক্রেতারা।

প্রতি বছর যশোর জেলায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়। সে ধারা অব্যাহত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ফুলচাষিরা।

 জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, যশোরের ৮টি উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়ে থাকে। তার মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী-পানিসারার প্রায় ৫ হাজার কৃষক ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করছেন। এখানকার উৎপাদিত ফুলে দেশের ফুলের চাহিদার ৬০-৭০ ভাগ জোগান হয়ে থাকে। তবে এবার ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও করোনার কারণে ফুলের উৎপাদন ব্যাহত হলেও বিভিন্ন দিবসকে টার্গেট করে আগস্ট থেকে এই অঞ্চলের ফুলচাষিরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। ফুলের ক্ষেত পরিচর্যায় এখন মহাব্যস্ত চাষিরা।

করোনায় ধূসর থাকা জমিতে কয়েক মাস হাড়ভাঙা খাটুনির মাধ্যমে তাদের জমিতে বাহারি রঙের ফুল ফোটাতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে ২৭২ হেক্টর জমিতে গ্লাডিওলাস, ১৬৫ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধা, ১০৫ হেক্টর জমিতে গোলাপ, ৫৫ হেক্টর জমিতে গাঁদা, ২২ হেক্টর জমিতে জারবেরা এবং ৬ হেক্টর জমিতে অন্যান্য ফুল চাষ হয়েছে।

গদখালী গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, বর্তমানে গদখালী বাজারে পাইকারি ফুল বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস গোলাপ ৩-৪ টাকা, জিপসি ফুলের বান্ডেল সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা, গ্লাডিওলাস রং-ভেদে প্রতি পিস ১২ থেকে ১৫ টাকা, ক্যালেন্ডার এক বান্ডেল ৫শ টাকা, জারবেরা ফুল ৮ থেকে ১০ টাকা, গাঁদা ১০০ পিস ১শ থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারিতে ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন গদখালীর ফুলচাষিরা। ঝিকরগাছার গদখালীর বিস্তীর্ণ জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে করোনার কারণে ব্যবসা করতে পারেননি কেউ। গদখালী অঞ্চলে ৫ হাজার চাষির মধ্যে ৫৫ জন সরকারের প্রণোদনা ঋণ পেয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন এনজিওর ঋণ কিংবা জমি বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত