বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বিক্রির কারণ জানালেন ডা. লেনিন। তিনি মনে করেন ভেজাল খাবার মানুষের মধ্যে অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়াচ্ছে।
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দেশে মাত্র এক বছরে শুধু গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার।
গত বছর ফার্মেফিতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ। এক বছরে সাড়ে ১৬ শতাংশ হারে বাড়ছে দেশে ওষুধের বাজার। ২০২০ সালে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে এ বাজারের আকার। এর ৬৮ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ ১০ ওষুধ কোম্পানি। বিক্রির শীর্ষ তালিকায় রয়েছে অ্যান্টিআলসারেন্ট বা অ্যাসিডিটির ওষুধ। সর্বাধিক বিক্রি হওয়া ওষুধের তালিকায় এর পরই আছে অ্যান্টিবায়োটিক।
ইউটিউব চ্যানেল আগামী নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. লেনিন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ফাস্ট ফুড ও ভেজাল খাবার মানুষের মধ্যে অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়াচ্ছে। অ্যান্টিআলসারেন্ট ওষুধের বিক্রিও তাই সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ওষুধটি কিনতে পারাও এর বিক্রি বেশি হওয়ার আরেকটি কারণ। দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে। সে কারণে বাজারে অ্যাসিডিটির ওষুধের চাহিদা বেশি।
ডা. লেনিন বলেন, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেতে খেতে একটা সময়ে আমাদের পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্র সেই ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, অনেকটা মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাওয়ার মতো, তখন ওই বিশেষ ওষুধটি না খেলে মানুষের পাকস্থলী সঠিকভাবে কাজ করে না এবং এই কারণেই গ্যাস্ট্রিকের ওষুধটি দিনের পর দিন চলতে থাকে।
ডা. লেনিন আরও বলেন, এটি রোধ করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোন ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়, ব্যথার ওষুধ খেলেই গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেতে হবে এই ধারণা সবার ক্ষেত্রে সঠিক নয়, যার পাকস্থলী ভালো আছে বা আলসার রোগ নেই তারা স্বল্পমেয়াদে অর্থাৎ এক দেড় সপ্তাহ পর্যন্ত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ছাড়াই ব্যথার ওষুধ খেতে পারবেন।
