আশির দশকে জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’ গানের গীতিকার হিসেবে প্রয়াত সৈয়দ আসাদউদ্দোল্লা সিরাজীর নামে কপিরাইট সনদ দিয়েছে কপিরাইট অফিস। এত দিন গানটির গীতিকার হিসেবে মনিরুজ্জামান মনির এবং সুরকার আলম খানের নাম ব্যবহার হয়ে আসছিল। তবে সুরকারের কপিরাইট কার নামে হবে, সে বিষয়টির সুরাহা করা যায়নি বলে গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন কপিরাইটস অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী।
১৯৮২ সালে এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে ‘প্রাণ সজনী’ চলচ্চিত্রে এ গানটি জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে গানটির গীতিকার হিসেবে মনিরুজ্জামান মনির এবং সুরকার আলম খানের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে গেল বছরের শুরুর দিকে কপিরাইট অফিসে অভিযোগ করেন আসাদউদ্দোল্লা সিরাজীর উত্তারিকারী সৈয়দা গুলরুখ সিরাজী। তিনি দাবি করেন, গানটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে সংকলিত রয়েছে এবং আসাদউদ্দোল্লা সিরাজীর মাজারে তার ভক্তরা গানটি নিয়মিত পরিবেশন করেন। প্রমাণ হিসেবে এর একটি ভিডিও চিত্র কপিরাইট অফিসে দাখিল করেন তিনি।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কপিরাইট অফিস মনিরুজ্জামান মনির এবং আলম খানের কাছে ব্যাখ্যা চায়। সেখানে মনিরুজ্জামান মনির গানটির গীতিকার নন বলে স্বীকার করেন। তবে আলম খান লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, ‘প্রাণ সজনী’ চলচ্চিত্রের পরিচালক ১৯৮২ সালে তাকে গানটির কথাগুলো দিয়েছিলেন। পরে তিনি গানটির সুরারোপ করেন এবং সিনেমাটি ১৯৮৩ সালে মুক্তি পায়। আলম খান গানটির সুরকারের কপিরাইট দাবি করেন।
কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গানটির গীতিকার হিসেবে যেহেতু মনিরুজ্জামান মনির নিজেই সত্যতা জানিয়েছেন, ফলে গীতিকার হিসেবে প্রয়াত আসাদউদ্দোল্লা সিরাজীকে গীতিকারের স্বত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু আলম খান সুরকারের স্বত্ব দাবি করেছেন। এখন গীতিকারের অনুমতি ছাড়া তো সুর করা যায় না। আসাদউদ্দোল্লা সিরাজী ১৯৬৫ সালে গানটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে আলম খান দাবি করেছেন, তিনি সিনেমার পরিচালকের কাছ থেকে গানের কথা পেয়ে সুরারোপ করেছেন। ফলে বিষয়টি একটু জটিল হয়ে আছে। এ জন্য কপিরাইট অফিস গীতিকারের কপিরাইট সনদ দিলেও সুরকারের বিষয়টি এখনো মীমাংসা করতে পারেনি।
জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে গানটি মূল গীতিকারের অনুমতি ছাড়া প্রাণ সজনী চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, যা কপিরাইট আইন অনুযায়ী বৈধ হয়নি। অতএব সিনেমার প্রযোজক কর্র্তৃক গানটি অন্যত্র বিক্রয়, ব্যবহার বা রিমেক করার বৈধ অধিকার নেই। কেউ গানটি ক্রয় করে ব্যবহার করতে গেলে প্রকৃত গীতিকারের অবর্তমানে তার উত্তরাধিকারীদের অনুমতি নিতে হবে। তাদের অনুকূলে কপিরাইট সনদ ইস্যু করা হয়েছে।
