বাংলাদেশসহ ৫ দেশ থেকে শিশু দত্তকে অনিয়ম নেদারল্যান্ডসে

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৫:২৭ পিএম

বিদেশ থেকে শিশুদের দত্তক নেয়া পুরোপুরি স্থগিত করে দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের সরকার। বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ থেকে শিশুদের দত্তক নেবার ক্ষেত্রে অনিয়ম নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশের পর এমন পদক্ষেপ নিল ডাচ সরকার।

বিবিসি জানায়, সরকারের গঠিত একটি বিশেষ কমিটি দু'বছর ধরে তদন্তের পর সোমবার ওই রিপোর্টটি প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, ১৯৬৭ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মোট ৩০ বছরে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং শ্রীলংকা থেকে যে শিশুদের দত্তক নেয়া হয়েছিল - তার প্রক্রিয়ায় গুরুতর লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত পাওয়া গেছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, সেসময় অপহরণ, শিশু পাচার, দলিলপত্র জালিয়াতি ও চুরি, এবং মিথ্যা কারণ দেখিয়ে দত্তক নেবার মতো ঘটনাও রয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে আইনি সুরক্ষা সংক্রান্ত ডাচ মন্ত্রী স্যান্ডার ডেকার বলেছেন, ডাচ সরকার বহু বছর ধরে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বা কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আন্ত:রাষ্ট্রীয় দত্তক গ্রহণের প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের ব্যাপারটি উপেক্ষা করেছে।

ডাচ সরকার এ জন্য দত্তক নেয়া শিশুদের কাছে দুঃদুঃখ প্রকাশও করেছে।

তদন্ত কমিটি দেখতে পেয়েছে যে, দারিদ্র্যের কারণে অনেক নারীকে তাদের শিশুকে দত্তক দিতে বাধ্য করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে জাল কাগজপত্রও ব্যবহার করা হয়।

এই কমিটি বলছে, এসব অবৈধ দত্তক গ্রহণের কিছু ঘটনায় বিভিন্ন দেশে নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা এ সংক্রান্ত দলিলপত্র 'যত্নের সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখেননি' বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে এ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ঘুষ গ্রহণ বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইন্দোনেশিয়া থেকে দত্তক নেয়ার মাধ্যমে ডাচ নাগরিক হওয়া বিদিয়া অস্তুতি বোয়ের্মা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বোয়ের্মা বলেন, তিনি একে স্বাগত জানাচ্ছেন কারণ পদ্ধতিটির ব্যাপক সংশোধন করা দরকার- যেহেতু এটি এখনো আর্থিক প্রণোদনাভিত্তিক রয়ে গেছে এবং তা শিশু পাচারে উদ্বুদ্ধ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত