রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গেস্নাবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের এক মামলায় তার সহযোগী অনিন্দিতা মৃধাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়। এরপর দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। বিকেল পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
গত ২১ জানুয়ারি সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের তদন্ত টিম। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ায় ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করে দুদকের তদন্ত টিম। পরে ২টার দিকে তাদের সিএমএম আদালতে নিয়ে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, অনিন্দিতার বাবা সুকুমার মৃধা পি কে হালদারের আয়করসংশ্লিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। সে সূত্রে পি কে হালদারের অবর্তমানে তার সম্পদ সুকুমার ও অনিন্দিতার তত্ত্বাবধানে ছিল।
এছাড়া পি কে হালদার অনিন্দিতাকে উইন্টার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক করেন। এ কোম্পানির নামে এফএএস ফিন্যান্স অ্যান্ড লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিনানশিয়ালি সার্ভিস থেকে ভুয়া নামে ১৬৮ কোটি টাকা ঋণ তুলে নেওয়া হয়েছে; যা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে পাচার করা হয়। এর বাইরে পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদারের নামে যে অর্থ লোপাট ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে সেখানেও অনিন্দিতার ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে দুদকের হাতে।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৯ সালে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তা বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলার তদন্তে অনিন্দিতা মৃধার সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিশন। এসব ব্যাপারে গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পি কে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাবস্থায় আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি কানাডায় পলাতক। ইতিমধ্যে কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে।
এদিকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদারের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত বছর ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডির দুটি ফ্ল্যাটসহ পি কে হালদারের স্থাবর সম্পদগুলো ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন এ আবেদন করেন। এদিকে এ বছরের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করেছে ইন্টারপোল। এর আগে ৫ জানুয়ারি পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট।
