ঝিনাইদহে বাস দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:২৬ পিএম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে জিকে পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে পড়ে গিয়ে ১১ জন নিহত হয়েছেন। সে সময় আহত হয়েছেন বাসে থাকা ৩০ জন যাত্রী।

বুধবার বিকেলে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের বারোবাজারে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২ ঘণ্টা  ধরে সড়কটির সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলের উভয় পাশে শত শত বাস ট্রাক আটকে পড়ে।

নিহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে মুস্তাফিজুর রহমান (২৪), ভাটপাড়া গ্রামের রণজিৎ দাসের ছেলে সনাতন দাশ (২৫), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে রেশমা (২৬), আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ গ্রামের জান্নাতুল বিশ্বাসের ছেলে ওয়ালিউল আলম শুভ (২৫), শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া গ্রামের মৃত মহরম বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল আজিজ (৭৫), সদর উপজেলার নাথকুন্ডু গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে ইউনুস আলী (৩২)। 

নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৭ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা ১ শিশু। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বাসের সকল যাত্রীই রক্তাক্ত আহত হন। আহতদের চিৎকারে ওই এলাকার সাধারণ লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। পরে খবর পেয়ে কালীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিস, বারোবাজার হাইওয়ে পুলিশ সদস্যার আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১জন মারা যায়। এর মধ্যে নারী শিশু রয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি যশোর-ঝিনাইদহের বারোবাজার আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জিকে বাসটি রাস্তার ওপর উল্টে পড়ে। পরে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপরে আড়াআড়ি ভাবে উল্টে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কের বাসগুলো বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে যাত্রীবহন করে আসছে। যে কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।

কালীগঞ্জ দমকল বাহিনীর স্টেশন অফিসার মামুনুর রশিদ জানান, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসের মধ্যে থেকে হতাহতদের উদ্ধার করি। আহতদের কালীগঞ্জ ও যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন।

বারোবাজার পুলিশ পাড়ির উপ-পরিদর্শক মোকলেচুর রহমান জানান, যশোর থেকে ছেড়ে আসা জিকে পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঝিনাইদহের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সড়কের বারোবাজার আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার ওপর পড়ে যায়। পরে পেছন দিক থেকে একটি ট্রাক ওই বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন মারা যায়। 

এদিকে দুর্ঘটনার পর ঝিনাইদহ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারা, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বদরুদ্দোজাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন ও নিহতদের পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত