ঝিনাইদহে বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে মাতম, পাঁচজনই শিক্ষার্থী

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:২০ পিএম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।

নিহতদের মধ্যে ৫ জনই যশোর এমএম কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শিক্ষা জীবনের শেষ পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল তাদের।

তারা হলেন- কালীগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের রনজিত দাসের ছেলে সনাতন দাশ (২৫), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে রেশমা (২৬), কোটচাঁদপুর উপজেলার হরিনদিয়া গ্রামের হারুন অর রশিদ সোহাগ (২৫), কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মুস্তাফিজুর রহমান কল্লোল (২৪), সদর উপজেলার নাথকুন্ডু গ্রামের ইউনুস আলী (২৬)।

কালীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাটপাড়া গ্রামের সনাতন দাশের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর পরিবার।

বাবা রনজিৎ দাস বলেন, কষ্ট করে ছেলের পড়ালেখার খরচ চালিয়েছি। একদিন সে চাকরি করে সে সংসারের অভাব ঘুচাবে এই আশায়।

অপরদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের নিহত মুস্তাফিজুর রহমানের পরিবারের মধ্যেও এখন চলছে শোকের মাতম।

বড় ভাই নাসের উদ্দীন জানান, বড় আশা করে তাকে লেখাপড়া শেখানো হয়েছে। চালকের অসাবধানতায় বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তার।

বারোবাজার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ মেসবাউল হক জানান, তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারেন বাসটি বেপরোয়া গতিতে চালানো হচ্ছিল। একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় উল্টে যায়।

এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক বাসের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে বাসটি ভেঙেচুরে যায় ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে কিনা তা খোঁজ করা হচ্ছে। মালিককে খোঁজ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নিহত ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। পরিবারের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে জেঁকে পরিবহন যশোর থেকে ঝিনাইদহগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার উপর উল্টে পড়ে যায়। পরে বিপরীত থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ জন মারা যায়। আহত হন অন্তত ২০ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত