চাঁদপুরের সেই কৃষক বিল্লালের পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:২২ পিএম

সেই সত্তরোর্ধ প্রতিবন্ধী কৃষক বিল্লাল হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ তার কার্যালয়ে বিল্লাল হোসেনের হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা তুলে দেন। সমাজ সেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে বিল্লাল হোসেনকে সহজ শর্তে ২৫ হাজার টাকার ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হয়।

তা ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে কৃষি কাজে সহায়তা প্রদান ও বিল্লালের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিভিল সার্জনকে অনুরোধ জানান।

এর আগে রবিবার ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে কৃষক বিল্লালকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার ‘বিল্লালের প্রতিবন্ধিতা জয়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় দৈনিক দেশ রূপান্তরে। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমেও তাকে নিয়ে সংবাদ করা হয়। সংবাদটি নজরে আসলে রবিবার ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয় বিল্লালকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে কল্যাণে বিল্লাল হোসেনের সংবাদ জানতে পারি। তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও কারো কাছে হাত পাতেননি। অনেক কষ্ট করে কৃষিকাজ করে তার সংসার চালাচ্ছেন। বিষয়টি আমাদের খুবই অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা তার পাশে দাঁড়াতে পেড়ে গর্বিত বোধ করছি। অনেকে আছেন যারা শারীরিকভাবে সক্ষম হয়েও ভিক্ষাবৃত্তি করে। কিন্তু তিনি  শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেননি।

তিনি বলেন, তার খবর জানতে পেরে ইতিমধ্যে সমাজ সেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। আজকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগদ ২০ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দিয়েছি, সমাজ সেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে সহজ শর্তে ২৫ হাজার টাকার একটি ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি যেন আমাদের এই ক্ষুদ্র সহায়তা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরো ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারেন। ভবিষ্যতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাকে কৃষি কাজে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। তা ছাড়া তার চিকিৎসার জন্য জেলা সিভিল সার্জন অফিস সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, বিল্লাল হোসেনের পাশাপাশি  আফিয়া বেগম নামের শতবর্ষী এক বৃদ্ধাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ নগদ ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ওই নারী দীর্ঘদিন চাঁদপুর শহরের কোর্ট স্টেশনে ভিক্ষাবৃত্তি করে আসছিল বলে জানান তিনি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ইতিমধ্যে কৃষক বিল্লাল হোসেনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুজন অর্থোপেডিক সার্জনের তত্ত্বাবধানে তার পায়ের ক্ষতের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এ জন্য তাকে কোনো প্রকার অর্থ খচর করতে হবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিয়া ফিরোজ আহমেদ খানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মদনের গাঁও এলাকার কৃষক বিল্লাল হোসেন গাজী। ১২ বছর আগে ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে বিষাক্ত কিছুর সংস্পর্শে তার পায়ে পচন ধরে। ভালো না হওয়ায় ১০ বছর আগে কেটে ফেলা হয় তার পা দু’টি। কিন্তু পঙ্গুত্বের কাছে হার মেনে থেমে যায়নি তিনি। কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে অতি কষ্টে হাঁটা চলা করে কৃষি কাজ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত