ফেনীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার পর তার পারিবারিক গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে সোমবার রাতে আগুনে তাদের একটি পিকআপ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলার শিকার সাংবাদিক দৈনিক ইত্তেফাকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শরিয়ত উল্যাহ।
বাজারের চৌকিদার জিরু মিয়া জানান, সোমবার রাতে আগুন দেখতে পেয়ে সাংবাদিকের বড় ভাই মোহাম্মদ উল্যাহকে জানালে এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন নেভানো হয়। তবে তার আগে গাড়ির অর্ধেক পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে সোমবার সকালে ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকের পরিবারের অভিযোগ, ৮ ফেব্রুয়ারি বাবার কুলখানি অনুষ্ঠানে বাড়িতে আসলে ভূমি বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ইন্ধনে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আইয়ুব নবী ফরহাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন শরিয়ত উল্যাহ।
তারা আরো দাবি করে চাঁদা না পেয়ে যুবলীগ নেতা ফরহাদ হামলা চালিয়েছে।
ওই ঘটনায় আহত সাংবাদিক শরিয়ত উল্যাহ বাদী হয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আইয়ুব নবী ফরহাদসহ তাদের ভূমি বিরোধের প্রতিপক্ষ শহিদ উল্যাহ, জসিম উদ্দিন ও ওমর ফারুকের নামে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
তার বড় ভাই মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যার পর সোনাপুর বাজারের পাশে বাড়ির সামনে গাড়িটি রেখে আমরা ঘুমাতে যাই। রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাজারের চৌকিদারের ডাকে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখতে পাই আমাদের গাড়িটি আগুনে জ্বলছে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তার আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও গাড়িটি অর্ধেক পুড়ে ছাই হয়ে যায়’।
তিনি আরো বলেন, ‘ভাইয়ের দায়ের করা মামলা তুলে নিতে যুবলীগ নেতাসহ আসামিরা নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়ে ভয় দেখাতে তারা আমাদের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন’।
অভিযোগ অস্বীকার করে যুবলীগ নেতা আইয়ুব নবী ফরহাদ বলেন, ‘সাংবাদিক শরিয়ত উল্যাহর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হলেও পরে তাদের পরিবারের সঙ্গে আমার আপস-মীমাংসা হয়ে যায়। গত এক সপ্তাহ ধরে আমি এলাকার বাইরে অবস্থান করছি। আমার দলীয় প্রতিপক্ষ বিরোধকে পুঁজি করে আমাকে ফাঁসাতে গাড়িতে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করে’।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ও ভূমি বিরোধের সুবিধাভোগকারী তৃতীয় পক্ষ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে’।
স্থানীয়রা বলেন, পরিবারটির সঙ্গে এলাকার আরো কয়েক পরিবারের ভূমিবিরোধ চলছে। কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তারা।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, এসপি স্যারসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও সোমবার বিকেল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারপরও আগের ও বর্তমান ঘটনার কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
