জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানওয়ার সিরাজকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ এ তথ্য জানান।
রহিমা কানিজ বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের নিয়মিত সভায় সানওয়ার সিরাজকে অপসারণের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।
সানওয়ার সিরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন না বলেও জানান রহিমা কানিজ।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরে সানওয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি বরাবর যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের এক ছাত্রী। অভিযোগটি তদন্তের জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠান বিভাগীয় সভাপতি।
তখন অভিযোগ আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল তদন্ত কাজ শুরু করে।
এ ছাড়া তদন্ত চলাকালে সানওয়ার সিরাজকে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখার সুপারিশ করে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এই সুপারিশের অনুমোদন দিয়ে সানওয়ার সিরাজকে সাময়িকভাবে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বুধবার বিকেলে জাবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন সানওয়ার।
তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের প্রধান আমার বিরুদ্ধে একপাক্ষিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে নানা ‘ডকুমেন্টস’ উপস্থাপন করতে চাইলে সেল তা গ্রহণ না করেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যিনি যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের প্রধান হিসেবে তদন্ত করেছেন তিনি একাধারে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সিন্ডিকেটেরও সদস্য। যিনি তদন্ত করেছেন তিনিই যদি সিদ্ধান্ত দেন তাহলে তা একপাক্ষিক হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমার কাছে যেসব ডকুমেন্টস আছে তা দিয়ে কোনোভাবেই আমাকে এই শাস্তি দিতে পারে না। মূলত অধ্যাপক বশির আহমেদ ও সেলের প্রধান রাশেদা আখতারের পদের দ্বন্দ্বের কারণেই আমাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’
