পবিহন শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, অস্ত্রসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:১৪ পিএম

সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ নিয়ে তুলকালাম হয়েছে। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ওই স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে গেলে পরিবহন শ্রমিকেরা এতে বাধা দেন। এ নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে পড়ে নগরীর প্রাণকেন্দ্র চৌহাট্টা এলাকা। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় পরিবহন শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ১৫-২০টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। তারা মেয়র ও কাউন্সিলদের ওপরও হামলার চেষ্টা করে। পুলিশ ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ফয়সল আহমদ ফাহাদ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বলে জানা গেছে।  সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০-১৫ জন আহত হয়েছেন। পথচারীরা আতঙ্কে দিগ্‌বিদিক ছুটে যান। ওই এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে পড়ে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরীর চৌহাট্টায় দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দখল করে গাড়ির স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। নগরীর চলমান উন্নয়নকাজের জন্য এই স্ট্যান্ড উচ্ছেদে উদ্যোগী হয় সিটি করপোরেশন। ৪দিন আগেও আরেক দফা সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সেখানে গিয়ে স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়।

বুধবার ফের সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সড়কের উন্নয়নকাজের জন্য ওই এলাকায় যান। এ সময় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কয়েকজন কাউন্সিলর, সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্য কর্মকর্তারাও উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে যান। তখন মেয়র অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে পরিবহন শ্রমিকদের অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা মেয়র ও সিটি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়ে একপর্যায়ে মারমুখী হয়ে ওঠে। সিটি করপোরেশনের কর্মীরাও তখন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাঁধে। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা শুরু হয়। পরিবহন শ্রমিকেরা নির্বিচারে গাড়ি ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়রসহ কর্মকর্তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। তখন পুলিশ ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বন্দুকধারী যুবক ফয়সল আহমদ ফাহাদকে (৩৫) আটক করা হয়। ফাহাদ নিজের একনলা বন্দুক দিয়ে মেয়রকে গুলি করতে উদ্যত হয়েছিল বলে মেয়রের সহকর্মীরা দাবি করেছেন। আটক ফাহাদ সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে কার-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের চৌহাট্টা শাখার সভাপতি অরুণ দেবনাথ বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। হামলায় আমাদের ৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। পরে সিটির কর্মীরাই অনেকগুলো গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি এসএম আবু ফরহাদ জানান, ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং অস্ত্রসহ ফাহাদ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ওসি জানান, এ ব্যাপারে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে চৌহাট্টা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ জানান, সরকারি সড়ক দখল করে চৌহাট্টায় দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে পরিবহন শ্রমিকেরা। সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজের জন্য স্ট্যান্ড উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়ায় পরিবহন শ্রমিকেরা মারমুখী হয়ে উঠে। পরে সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশের ওপরও হামলা চালায় শ্রমিকেরা।   

সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেয়রের সঙ্গে আমরা সেখানে যাই। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকেরা আমাদের লক্ষ্য করেও ঢিল ছুড়েছে। আমার গায়েও একটি ঢিল লেগেছে।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক দখল করে অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে পরিবহন শ্রমিকেরা বেপরোয়া আচরণ করছে। স্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে তাদের অনুরোধ করার পরও তারা যেভাবে হামলা চালিয়েছে তা চরম ধৃষ্টতা। তারা বন্দুক দিয়ে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করতে উদ্যত হয়েছে।

মেয়র জানান, ঘটনা নিয়ে তিনি সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিকার চাইবেন। কারণ এটা তার ব্যক্তিগত কোন কাজ নয়। নগরবাসীর জন্যই তিনি অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করছেন, উন্নয়নকাজ পরিচালনা করছেন। উন্নয়নে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত