চৌদ্দগ্রামের শুভপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট গ্রামে বিএডিসি কর্তৃক পরিচালিত একটি গভীর নলকূপ এক শেয়ারহোল্ডারের অবহেলায় বন্ধ থাকায় এবার ২ হাজার ৮০০ শতক জমিতে বোরো চাষ করতে পারেননি দুই শতাধিক কৃষক। বিক্ষুব্ধ কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা বরাবর ১৫ দিন আগে স্মারকলিপি দিয়ে কোনো সমাধান না পেয়ে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হয়েছেন।
নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেওয়া স্মারকলিপি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ফকিরহাটে অবস্থিত বিএডিসি কর্তৃক পরিচালিত একটি গভীর নলকূপের দায়িত্বে আছেন সিরাজুল ইসলামের ছেলে আবদুল মতিন মাস্টার এবং হাজি রফিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম। এ বছর হাজি রফিকুল ইসলামের নলকূপটি পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু গত বছর পরিচালনাকারী আবদুল মতিন মাস্টারের স্বেচ্ছাচারিতা এবং নলকূপ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ট্রান্সফরমার-সরঞ্জামসহ নলকূপ ঘরটি তালাবদ্ধ রাখার কারণে হাজি রফিকুল ইসলাম তা চালু করতে পারেননি। এ কারণে এলাকার দুই শতাধিক কৃষক-কৃষাণী জমিতে সেচের পানি দিতে না পারায় এখনো বোরো আবাদ করতে পারেননি।
এদিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, বিএডিসি যদি পুনরায় আবদুল মতিন মাস্টারকে সেচের দায়িত্ব দেয়, তবে তারা কেউ বোরো আবাদ করবেন না। তারা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও মতিন মাস্টার সঠিকভাবে সেচের কাজ পরিচালনা না করায় আমাদের অনেকের ফসল নষ্ট হয়েছে। পানি দেওয়ার কথা বললে তিনি কৃষকদের প্রায়ই হুমকিধমকি দিতেন। তার নিজের কোনো কৃষিজমি না থাকায় প্রকৃত কৃষকদের দুঃখ তিনি বোঝেন না। এসব ব্যাপারে মতিন মাস্টার বলেন, নলকূপটি পরিচালনার জন্য কেউ আমার কাছে চাবি নিতে আসেননি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজালাল বলেন, কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নলকূপটি চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন সরকার স্মারকলিপি পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংযোগ চালুকরণসহ নলকূপটি চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
