গর্ভপাতের লক্ষণ ও প্রতিকার

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:৩২ এএম

গর্ভধারণ করার ৭-১০ দিনের মধ্যেই ইমপ্লান্টেশনের কারণে কিছু রক্তপাত হয়। এটা স্বাভাবিক। এই রক্তের পরিমাণ অনেক কম থাকে, এমনকি নরমাল মাসিকে যে রক্ত যায়, তার চেয়েও কম। তবে অতিরিক্ত রক্ত গেলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। গর্ভধারণের পর অস্বাভাবিক রক্তস্রাব গর্ভপাতের প্রধান লক্ষণ। গর্ভপাতের সময় রক্তপাতের পরিমাণ সাধারণ পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের চেয়ে বেশি হয়। তলপেটে ব্যথাও হতে পারে। অনেক সময় রক্তের সঙ্গে মাংসল চাকার মতো বের হতে পারে। শুরুতে রক্তপাত অল্প থাকে, কিন্তু ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং তারপরই রক্তপি- বের হতে থাকে।

গর্ভপাতের পর চিকিৎসা

গর্ভপাত হলে প্রথম করণীয় হলো রক্তক্ষরণ বন্ধ করা এবং গর্ভপাত-পরবর্তী ইনফেকশন প্রতিরোধ করা। যদি গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভপাত হয়, তবে গর্ভের সব ফিটাল টিস্যু এমনিতেই বের হয়ে যায়। কিন্তু ভ্রƒণ ও প্লাসেন্টার সব অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বের হয়ে না গেলে অপারেশন করে বের করে ফেলতে হবে। তবে অপারেশনের পরও রক্তস্রাব পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। কোনো কারণে রক্তস্রাবের পরিমাণ বেড়ে গেলে কিংবা জ্বর এলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

গর্ভপাত প্রতিরোধের উপায়

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ সময় যেকোনো মাকে একটু সাবধানে থাকতে হবে। ভারী কাজ করা ও সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। আগে কোনো রোগের ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানাতে হবে। একাধিকবার গর্ভপাত হয়ে থাকলে আবার গর্ভধারণের আগে ফিজিক্যাল চেকআপ এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আগের গর্ভপাতের কারণ জানতে চেষ্টা করুন। পরে যাতে একই কারণের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ ভ্রমণ করা যাবে না। প্রচুর পানি পান করতে হবে।

গর্ভাবস্থায় খাদ্যাভ্যাস

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে দেয় এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া ধূমপান, অ্যালকোহল, ক্যাফেইন-জাতীয় পানীয় যেমন চা, কফি বা চকলেট এবং মানসিক চাপের সঙ্গে গর্ভপাতের সম্পর্ক রয়েছে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। গর্ভাবস্থায় বেশি সতর্ক থাকতে হয় ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে। কারণ অনেক ওষুধ এমন আছে যার ফলে গর্ভের সন্তানের সরাসরি ক্ষতি হয়। শিশু বিকলাঙ্গ, বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী হতে পারে। অনেক সময় ওষুধ সেবনের ফলে মৃত সন্তানের জন্মও হতে পারে। তাই ওষুধ সেবনের আগে সতর্ক থাকতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত