বড় মঞ্চে জার্মানির নতুন তারকা

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ এএম

বিশ্বকাপের মতো আসরে নায়করা হঠাৎ করেই জন্ম নেয়। কখনো তারা সুপারস্টার, কখনো বা অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত কোনো ফুটবলার। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জার্মানির ২-১ গোলের জয়টি সেই দ্বিতীয় গল্পেরই নতুন অধ্যায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ডেনিস উনদাভ যে গোলটি করলেন, তা শুধু জার্মানিকে তিন পয়েন্ট এনে দেয়নি, বরং তাকে রাতারাতি ম্যাচের নায়কেও পরিণত করেছে।

একজন সাবেক ফুটবলার হিসেবে আমি জানি, বড় টুর্নামেন্টে চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কতটা কঠিন। ম্যাচ যখন ১-১ সমতায় আটকে থাকে, তখন প্রতিটি পাস, প্রতিটি দৌড় এবং প্রতিটি শটের গুরুত্ব কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেই অবস্থায় উনদাভ যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, সেটিই একজন বড় খেলোয়াড়ের পরিচয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আইভরি কোস্ট জার্মানিকে সহজে খেলতে দেয়নি। তাদের রক্ষণ ছিল সংগঠিত, মাঝমাঠে ছিল প্রচন্ড লড়াই। জার্মানি বলের দখল বেশি রাখলেও আক্রমণের শেষ মুহূর্তে বারবার বাধার মুখে পড়ছিল। আইভরি কোস্টও পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল। ফলে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

এই ধরনের ম্যাচে কোচরা প্রায়ই বেঞ্চের দিকে তাকান, কারণ কখনো কখনো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন একজন ফুটবলার। উনদাজ সেই দায়িত্বই পালন করেছেন। পুরো ম্যাচে তিনি শুধু গোলদাতা ছিলেন না, আক্রমণে প্রাণসঞ্চারকারী হিসেবেও কাজ করেছেন। তার নড়াচড়া, জায়গা তৈরি করার ক্ষমতা এবং সুযোগ খুঁজে নেওয়ার প্রবণতা আইভরি কোস্টের রক্ষণকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেছে।

তবে তার আসল মুহূর্তটি আসে ম্যাচের শেষ দিকে। যখন সবাই ভাবছিল ম্যাচটি হয়তো ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে, তখন উনদাভ অসাধারণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ করে যে ফিনিশিং করলেন, তা ছিল একজন স্বাভাবিক গোল স্কোরারের কাজ। বড় খেলোয়াড়দের বিশেষত্বই হলো, তারা পুরো ম্যাচে নিখুঁত না খেললেও একটি মুহূর্তে সবকিছু বদলে দিতে পারেন। উনদাভ ঠিক সেটাই করেছেন।

জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে আমরা অনেক বড় ফরোয়ার্ড দেখেছি। তাদের সবার একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য এগিয়ে আসা। উনদাভ এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাননি, কিন্তু এই ম্যাচে তিনি দেখিয়েছেন যে তার মধ্যে সেই মানসিক শক্তি রয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন গোল আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, আর আত্মবিশ্বাসই একজন খেলোয়াড়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

এই জয় জার্মানির জন্য শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বরং একটি বার্তাও। দলটি এখন জানে যে কঠিন ম্যাচেও তারা ফল বের করে আনতে পারে। আর সেই বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডেনিস উনদাভ।

ফুটবলে নায়ক হওয়ার জন্য সব সময় পুরো টুর্নামেন্ট-জুড়ে আলো ছড়াতে হয় না। কখনো কখনো একটি মুহূর্তই যথেষ্ট। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে সেই মুহূর্তটি ছিল উনদাভের। আর সেই কারণেই এই ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামটি হলো, ডেনিস উনদাভ। বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন এক নায়কের জন্ম হলো, আর জার্মানি পেল ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন আশার প্রতীক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত