সম্প্রতি শুরু হয়েছে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ নামের সুন্দরী প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার মূল পর্বের জন্য ইতিমধ্যেই ৫০জন প্রতিযোগীকে নির্বাচন করা হয়েছে।
এদিকে মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই প্রতিযোগিতাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মডেল, অভিনেত্রী শান্তা পাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অভিযোগ তুলেছেন, অডিশন না দিয়েই সেরা ৫০ জনের একজন নির্বাচিত হয়েছেন তানজিয়া জামান মিথিলা নামের এক প্রতিযোগী।
শান্তা পাল বলেন, ‘মেধা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতাগুলোর উপর আমরা খুব ভরসা করি। ভাবি যে হয়তো মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে। কিন্তু সরেজমিনে হাজির হয়ে যা দেখলাম, তা সত্যিই দুঃখজনক।’
শান্তা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ‘আমি নতুন কিছু শেখার উদ্দেশ্যে মিস ইউনিভার্স-২০২১ এর মঞ্চে উপস্থিত হই এবং ৮/১০ জনের মতো আমিও খুবই সাধারণ পরিবারের মেয়ে হয়ে ওখানে অডিশন দিতে চেয়েছিলাম। তাই আমি চুপ করে লাইনে দাঁড়িয়ে বসেছিলাম, আমার মনে হয় প্রায় তিন ঘণ্টা আমি লাইনে বসে বসে ছিলাম এবং অপেক্ষায় ছিলাম কখন আমার অডিশন শুরু হবে। এর মধ্যে আমি দেখতে পাই আমাদের সিনিয়র মডেল তানজিয়া জামান মিথিলাকে। যিনি অলরেডি বলেছেন যে উনি বলিউডে ফিল্ম করছেন এবং অনেক ভালো ভালো কাজ করছেন এবং তার এই সাফল্যে আমরা সবাই খুশি, তিনি আরও এগিয়ে যাবেন এই প্রত্যাশা সবসময় করি। কিন্তু মিথিলা আপু তেমন অপেক্ষা না করেই বেরিয়ে যান। আমি স্পষ্ট দেখলাম, যেখানে আমি তিন ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করে বসে আছি সেখানে অডিশন না দিয়েই মিথিলা আপু ভেন্যু থেকে বের হয়ে গেলেন এবং উনি ফিরে এসে অডিশন দেননি কারণ অডিশনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি ছিলাম। শুরু থেকে শেষ অবধি উনাকে আর দেখতে পারিনি। কিন্তু প্রতিযোগিতার রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার পর জানলাম, উনি টপ ৫০-এ জায়গা করে নিয়েছেন। খবরটি শুনে আমি বেশ অবাক হয়েছি।’

তানজিয়া জামান মিথিলা
এই অসংগতি নিয়ে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার দাবি করে শান্তা বলেন,‘এ ব্যাপারে আমি মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করেছিলাম টেলিফোনের মাধ্যমে- কী ব্যাপার, মিথিলা আপু টপ ফিফটি পর্যন্ত জায়গা করে নিয়েছে কিন্তু উনিতো অডিশনই দেননি। উত্তরে তারা আমাকে জানায়, অডিশন ওনার হয়েছে অনেক লাস্টে। তখন আমি ওনাকে জানাই সবার শেষে ওনার অডিশন হলো কীভাবে, আমি তো শেষ পর্যন্ত ছিলাম। এমনকি স্টুডিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বের হয়েছি। আমি প্রশ্ন করি, আপনারা কি উনার পার্সোনাল অডিশন নিয়েছিলেন? তাহলে সেই ক্ষেত্রে তো আমরা সবাই পার্সোনাল ইন্টারভিউয়ের জন্য আশা করতেই পারি, বলেন ভাইয়া! এটা শোনার পর উনারা ফোন কেটে দিয়েছেন। তার মানে আমরা এখন এটাই বুঝতে পারব যে অডিশন নেওয়া জাস্ট একটি শোঅফ ছিল, ট্যালেন্টেড প্রার্থী না দিয়ে যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে উপস্থিত থেকে জাস্ট অডিশনের জন্য এসে বসেছিল তাদের কি কোন দাম নেই। আমাদের ট্যালেন্ট এর কি কোন দাম নেই।’
এদিকে আয়োজকদের দাবি, তানজিয়া জামান মিথিলা অডিশনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে অভিযোগকারী শান্তা পাল জানান, অডিশন নিলেও স্পেশালভাবে তার অডিশন নেওয়া হয়েছে। এটা তো অনিয়ম। এমন একটা সুন্দরী প্রতিযোগিতায় কেন এমন অনিয়ম হবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় ‘ফ্লোরা ব্যাংক মিস ইউনিভার্স ২০২০’ সালের বাংলাদেশ পর্বের কার্যক্রম। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার নিবন্ধন শুরু হয়েছিল গত ১৩ জানুয়ারি এবং শেষ হয় ৪ ফেব্রুয়ারি। নিবন্ধন করেন ৯,২৫৬ জনেরও বেশি প্রতিযোগী। প্রাথমিক বাছাইয়ের পরে অডিশনের জন্য ডাক পান ৫০০ জন প্রতিযোগী। দেশে অবস্থানরত প্রতিযোগীদের অডিশন পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ১১ ফেব্রুয়ারি এবং বিদেশে অবস্থারত প্রতিযোগীরা ১৩ ফেব্রুয়ারি ভার্চুয়াল মাধ্যমে অডিশন পর্বে অংশ নেন। অডিশনের মাধ্যমে মূল প্রতিযোগিতার জন্য ৫০জনকে নির্বাচিত করা হয়।
সেরা ৫০ জনের মধ্য থেকে প্রথম ২০ জন প্রতিযোগীকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচন করা হবে। চূড়ান্ত পর্বের জন্য প্রস্তুত করতে তাদের নিয়ে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে গ্রুমিং প্রক্রিয়া। নানা বিষয়ের উপর জোর দিয়ে প্রস্তুত করা হবে প্রতিযোগীদের।

অডিশন পর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রিয়তা ইফতেখার (মিস কালচার ওয়ার্ল্ডওয়াইড ২০১৮), ফ্যাশন ডিজাইনার শাহরুখ আমিন, আইস টুডের ফ্যাশন এডিটর গৌতম সাহা এবং মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯-এর প্রথম রানারআপ আলিশা ইসলাম।
চূড়ান্তপর্বের বিচারক হিসেবে থাকবেন গায়ক তাহসান রহমান খান এবং অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মীম। আগামী ২০ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। আগামী মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২০’ প্রতিযোগিতার ৬৯তম মূল মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ‘ফ্লোরা ব্যাংক মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২০’-এর মুকুট বিজয়ী।
