রাজধানীর রূপনগরে গায়ের জামা দেখে স্বামী নুরুল ইসলাম গাজীর (৫০) কঙ্কাল শনাক্ত করেছেন তার স্ত্রী রহিমা বেগম। নিখোঁজের তিন মাস পর শনিবার বিকেলে পল্লবীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন সাদ ফিলিং স্টেশনের পাশ থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। সন্দেহ থেকে খবর দেওয়া হয় নুরুল ইসলাম গাজীর স্ত্রী রহিমা বেগমকে।
রবিবার কঙ্কালের গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থানা শার্ট দেখে শনাক্ত করেন কঙ্কালটি তার স্বামীর। এর আগে তিনি জিডি করেছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে নুরুল ইসলাম গাজী নিখোঁজ মর্মে তার স্ত্রী রহিমা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই ডায়েরির তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রম্নয়ারি মাসে অপহরণকারী সন্দেহে পুলিশ রয়েল, কালু, শাকিলসহ চারজনকে শনাক্ত করে। তাদের মধ্যে রয়েল, কালু ও আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেনি। পরে ডিজিতে অপহরণ মামলায় রূপান্তর করে থানা পুলিশ। শনিবার বিকেলে কঙ্কালটি উদ্ধারের পর স্ত্রী রহিমা গিয়ে তার স্বামীর বলে শনাক্ত করেন।
এডিসি আরিফ আরও বলেন, নুরুল ইসলাম গাজী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ডিএনএ প্রতিবেদনের মাধ্যমে কঙ্কালটি নুরুল গাজীর কি না, সেটা নিশ্চিত হতে হবে। তা ছাড়া তার মৃত্যুর কারণও নিশ্চিত হতে হবে। উদ্ধার কঙ্কালটি নুরুল ইসলাম গাজীর হয়ে থাকলে এবং তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে অপহরণ মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হবে।
রূপনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, নুরুল ইসলাম গাজী ও অপহরণ মামলার সন্দেহভাজন চার আসামি স্থানীয় মাদক কারবারি ছিলেন। মাদকের কারবার ছেড়ে দিয়ে তিনি মুদিদোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এতে তার পুরনো সহযোগী মাদক কারবারির সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে নুরুল ইসলাম গাজীকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
রূপনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য নিয়েছে। সেটা নুরুল ইসলাম গাজীর স্ত্রী-সন্তাদের সঙ্গে মেলানো হবে। এরপর নিশ্চিত হওয়া যাবে আসলে সেটা নুরুল ইসলাম গাজীর লাশ কি না। আমরা সন্দেহভাজন সব আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
