প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরিচালিত খালিশপুর পৌর কিচেন (সুপার) মার্কেট নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ)। চুক্তি অনুযায়ী গত বছর ৩০ মার্চ মার্কেটটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তা না পারায় পরে চলতি বছর ৩০ মে পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু কাজের গতি অত্যন্ত মন্থর হওয়ায় অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প সমাপ্ত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় উল্লেখ করে পরবর্তী জটিলতা পরিহারের স্বার্থে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে ঠিকাদারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে কেসিসিকে অনুরোধ করেছে বিএমডিএফ।
তবে মার্চ পর্যন্ত চুক্তি বলবৎ রাখতে বিএমডিএফ কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে কেসিসি। যদিও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো সাড়া মেলেনি।
খুলনা সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খালিশপুর পৌর সুপার মার্কেটটি নতুনভাবে গড়ে তুলতে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করে কেসিসি। নানা প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর বিএমডিএফের আওতায় মিউনিসিপ্যাল গভর্ন্যাস সার্ভিসেস প্রজেক্ট (এমজিএসপি) এর অর্থায়নে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় সোমা ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পুরাতন মার্কেট অপসারণসহ নানা জটিলতায় মার্কেট নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের ৩০ মার্চ মার্কেটটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু তা পারেনি ঠিকাদার। পরে চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বেজমেন্টসহ চারতলা ভিত্তির (ফাউন্ডেশন) মার্কেটটি প্রাথমিকভাবে সেমিবেজমেন্টসহ একতলা করার কথা। কিন্তু কাজের গতি অত্যন্ত মন্থর, যা দাখিলকৃত হালনাগাদ কার্যপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া অসম্পাদিত সব পূর্তকাজ শুরু করে অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করে প্রকল্প সমাপ্ত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সে কারণে পরবর্তী জটিলতা পরিহারের স্বার্থে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে এ কাজের জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে গত ১ ফেব্রুয়ারি কেসিসির নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালাকে চিঠি পাঠান বিএমডিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাসিনুর রহমান। তবে মার্চ পর্যন্ত চুক্তি বলবৎ রাখতে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএমডিএফ কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ৭৫ ভাগ শেষ করেছে ঠিকাদার। দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চলছে। অবশিষ্ট ২৫ ভাগ কাজ নির্ধারিত সময় ৩১ মে’র মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। বিগত অর্থবছর হতে করোনা মহামারী, অতিবৃষ্টি ও আম্পানসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে কাজের ৭৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। পাইল কাস্টিং, বেজমেন্ট ঢালাই ও গ্রাউন্ডফ্লোর ঢালাইসহ কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। এখনই কাজটি বাতিল করা হলে চিত্রালী কিচেন মার্কেটের প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ী জীবিকা অর্জনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে কেসিসির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে।
এ প্রসঙ্গে খালিশপুর পৌর কিচেন (সুপার) মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. রাজ্জাক মিন্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মার্কেট নির্মাণকাজ বাতিল হলে আমরা ৪০০ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পথে বসে যাব। আমাদের ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে। গাফিলতির কারণে ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ করতে পারছে না। ব্যর্থ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
বিএমডিএফের আওতাধীন প্রকল্প তত্ত্বাবধান করছেন প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাজ বন্ধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন কাজ কবে নাগাদ বন্ধ হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কেসিসি। এ বিষয়ে আমি আর কিছুই বলতে পারব না।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ সমাপ্তে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। তাই মার্চ পর্যন্ত চুক্তি বলবৎ রাখতে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএমডিএফ কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন। উত্তরে তারা বলেছেন কাজ বন্ধ করে দিতে। এখন মেয়র ও এমপি মহোদয় সুপারিশ করে বিএমডিএফ কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দেবেন খুব দ্রুত। তার উত্তর কী আসে দেখা যাক।’
যথাসময়ে কাজ শেষ করতে না পারার কারণ জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. তাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ ইতিমধ্যে মার্কেট ভবনের ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ সংশোধিত চুক্তি অনুযায়ী শেষ হবে।’
