প্রথম অধ্যায় : শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবন
কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর
১. ঘুম ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা কর।
উত্তর
ভূমিকা : ঘুম ও বিশ্রাম মানবজীবনের জন্য অপরিহার্য। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য বয়সভেদে ঘুম ও বিশ্রামের প্রয়োজন। কাজ, বিশ্রাম ও ঘুম একে অপরের পরিপূরক। সফলতার জন্য কাজের পাশাপাশি ঘুম ও বিশ্রামকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে শরীর ও মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন প্রয়োজন হয় বিশ্রামের।
বিশ্রাম ও ঘুমের প্রয়োজনীয়তা : ঘুম কম হলে শিশুদের আচরণগত সমস্যা তৈরি হয়। যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে প্রমাণ করেন, ‘অপর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।’ এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে পরবর্তী সময়ে জীবনে বিষণ্নতা, মনোযোগহীনতা প্রভৃতি সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। পড়াশোনায় বিঘœ ঘটায় এবং দেখা দেয় আত্মঘাতী প্রবণতা। শরীর সুস্থ না থাকলে মনও ভালো থাকে না। ফলে কোনো কাজও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় না। আমাদের দেহে খাদ্য ও পানির যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন ঘুম ও বিশ্রামের। চলাফেরা, কাজ-কর্ম ও ব্যায়ামের পর শরীর ক্লান্ত হয়, জীবকোষগুলো ক্ষয় হতে থাকে। শরীরের জীবকোষগুলোর ক্ষয়পূরণ এবং পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন। বিশ্রামে শরীরের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হয়। ঘুমের সময় দেহের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থির হয়ে পূর্ণ বিশ্রামে থাকে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ও হজমশক্তির কাজ সুশৃঙ্খলভাবে চলতে থাকে। এতে দেহ ও মনের বিকাশ অব্যাহত থাকে। বয়স ও শারীরিক গঠন অনুসারে বিশ্রাম ও ঘুমের চাহিদার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত ঘুমের প্রয়োজন ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা।
৮ থেকে ১১ বছর পর্যন্ত ঘুমের প্রয়োজন ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা।
১২ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত ঘুমের প্রয়োজন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা।
১৫ বছরের ঊর্ধ্বে ঘুমের প্রয়োজন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা।
উপসংহার : বিশ্রাম ও ঘুম সম্পর্কে ওপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি মানবজীবনে এর প্রয়োজন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পরিমাণে কম বিশ্রাম ও ঘুম অসুস্থতার পূর্ব লক্ষণ। তাই আমাদের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক বিকাশের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, ঘুম ও বিশ্রাম মানবজীবন ধারণ ও বিকাশের একটি অমূল্য উপাদান।
২. ‘সুস্থ দেহে সুন্দর মন’ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
শারীরিক সুস্থতার প্রধান বাহনই হলো ব্যায়াম। ব্যায়াম ছাড়া একজন মানুষের শারীরিক সুস্থতা আশা করা যায় না।
সুখী সুন্দর জীবনযাপনের জন্য সুস্থতার বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে মনও ভালো থাকে না। ‘সুস্থ দেহে সুন্দর মন’ এটি একটি প্রবাদ বাক্য যা সবকালে সত্য বলে প্রমাণিত। সুস্থতাই সুন্দর, সুন্দরই জীবন তাই দেহ মন সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য সুস্থ দেহে সুন্দর মন অত্যাবশক। মন ছাড়া দেহ এককভাবে চলতে পারে না। ব্যায়াম ও খেলাধুলা শুধু দেহের বৃদ্ধি ঘটায় না, মনেরও উন্নতি সাধন করে। শরীর ও মন একে অপরের পরিপূরক। একটিকে ছাড়া আরেকটির কল্পনা করা যায় না। দেহ ভালো না থাকলে মন খিটখিটে থাকে। আবার শারীরিক সুস্থতার ওপর নির্ভর করে মানসিক সুস্থতা। শারীরিক সুস্থতা, মানসিক বিকাশে ভূমিকা পালন করে শারীরিক সুস্থতার প্রধান বাহন হলো ব্যায়াম। ব্যায়াম ছাড়া একজন মানুষের শারীরিক সুস্থতা আশা করা যায় না। ব্যায়াম ও খেলাধুলা শুধু দেহের বৃদ্ধি ঘটায় না, মনের উন্নতিও ঘটায়।
পরিশেষে আমরা বলি, ‘ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল, সুস্থ দেহে সুন্দর মন।’
