প্রতিপক্ষের বাধায় সেচ বন্ধ, মরছে কলাগাছ

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ১২:৩২ এএম

প্রতিপক্ষের বাধার কারণে পরিচর্যার অভাবে মরে যাচ্ছে একটি কলাবাগান ও একটি চা-বাগান। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহারী ইউনিয়নের করতোয়া নদীর তীর ঘেঁষা নতুন বস্তি নামের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বাগান দুটির মালিকের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ বাগানে পানি সেচ করতে দিচ্ছে না। পরিচর্যাও করতে দিচ্ছে না। তাই গাছগুলো মরে যাওয়া শুরু করেছে। এ ব্যাপারে কয়েকবার সামাজিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এসব ঘটনায় বোদা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা। পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের অনুরোধও তোয়াক্কা করছে না প্রতিপক্ষ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত সাধু ব্যাপারীর ছেলে মো. নইমউদ্দিন বছর বিশেক আগে এই এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে বসত করা শুরু করেন। কেনা জমিতে তিনি কয়েক বছর আগে ১২ বিঘা জমির একটি প্লটে চার বিঘা জমিতে কলাবাগান, তিন বিঘা জমিতে চা-বাগান এবং পাঁচ বিঘা জমিতে শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে আসছেন। কলাবাগানটিতে দুই হাজার কলাগাছ রয়েছে। সাগর কলা প্রজাতির এই বাগানের প্রতিটি গাছেই থরে থরে ফল এসেছে। আগামী রমজানে কলা পাকা শুরু হওয়ার কথা। অন্যদিকে চা-বাগান থেকে এ সময় নতুন পাতা, নতুন কুঁড়ি আসার কথা। কিন্তু পানির অভাবে কলা এবং চা-গাছগুলো প্রায় মরে গেছে। এই মুহূর্তে পানি দিতে না পারলে অচিরেই বাগান দুটি ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রতিপক্ষের বাধার কারণে প্লটের অন্য পাঁচ বিঘা জমিতেও কোনো আবাদ করতে পারছেন না জমির মালিক। জমিটি খালি পড়ে আছে।  বাগান মালিকের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ একই গ্রামের মৃত মুন্সেফ আলীর ছেলে আবদুল হানিফ ও তার পরিবার জোর করে জমিটি দাবি করছেন। বাগানে পানি দিতে গেলেই তারা বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন। তাদের বাধার কারণে একদিকে বাগান মরে যাচ্ছে, অন্যদিকে পাঁচ বিঘা জমিতে কোনো আবাদই করতে পারছেন না তারা।

এ ব্যাপারে বোদা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে জানিয়ে নইমউদ্দিন আরও বলেন, কলাবাগানে গাছ মরে যাওয়ার কারণে প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে। চা-বাগানে ক্ষতি হচ্ছে ১৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে, সবজির জমিতে আবাদ করতে না পারার কারণে আরও অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। আমি পথে বসে গেছি।

তিনি আরও বলেন, জমির কাগজপত্র ঠিক আছে, দীর্ঘদিন দখল করে আছি। আমার এখানে কেউ নেই। আমরা বাইরে থেকে এসে এখানে বসত বাড়ি করেছি। প্রতিপক্ষ এই সুযোগ নিয়ে জোর করে জমি দাবি করে আমার ফসল নষ্ট করছে।

প্রতিপক্ষ আবদুল হানিফ বলেন, এই জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। জমির প্রকৃত মালিক করতোয়া টি এস্টেট ও আমরা। করতোয়া টি এস্টেটে আমার দুই ছেলে চাকরি করে। তাই তাদের পক্ষ থেকে আমি কাজ করছি। বাগান দুটি আমাদের।

বোদা থানার ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাগানে সেচ দেওয়ার জন্য আবদুল হানিফকে মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত