সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুড়িকাহুনিয়াতে নৌকাডুবির ঘটনার ২২ দিন পর মঙ্গলবার রাতে নিখোঁজ শ্রমিক আব্দুল আজিজ মোড়লের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাত ৯টার দিকে কপোতাক্ষ নদের কুড়িকাহুনিয়া ভাঙন পয়েন্ট থেকে এলাকাবাসীর সহায়তায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মরদেহটি উদ্ধার করেন।
রাতেই মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত আব্দুল আজিজ মোড়ল (৬৩) সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের পুইজালা গ্রামের মুন্সি মানিক মোড়লের ছেলে।
এর আগে নৌডুবিতে নিখোঁজ তিন শ্রমিকের মধ্যে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ বাবর আলী সরদার (৪৫) ও ১৯ ফেব্রুয়ারি শফিকুল ইসলাম সানার (৪৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, রাত ৯টার দিকে প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া ভাঙন পয়েন্টে কপোতাক্ষ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তাকে খবর দেয়।
তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীর সহায়তায় কপোতাক্ষ নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে শ্রীউলা ইউনিয়নের পুইজালা গ্রাম থেকে মনিরুল ইসলাম খোকা এসে মরদেহটি ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ তার বাবা আব্দুল আজিজ মোড়লের বলে শনাক্ত করেন।
এ সময় আশাশুনি থানার ওসি মো. গোলাম কবীরের সঙ্গে কথা বলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহটি রাত ১১টার দিকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে কপোতাক্ষ নদের পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঙে কুড়িকাউনিয়া এলাকায় বিশালাকৃতির খাল তৈরি হয়। গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাউবোর নিয়োগকৃত ঠিকাদারের মাধ্যমে ভাঙন পয়েন্ট মেরামতের কাজ চলছে।
বিভিন্ন স্থানের শ্রমিকরা ঠিকাদারের অধীনে এই ভাঙন পয়েন্ট গত আড়াই মাস ধরে কাজ করছে। মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টায় দিকে একটি ট্রলারে করে ১২ জন শ্রমিক বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজে যাওয়ার সময় ভাটার টানে স্রোতের মুখে পড়ে ভাঙন পয়েন্টে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারটিতে থাকা ১২ জনের মধ্যে নয়জনকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজন নিখোঁজ থাকে।
নিখোঁজ তিনজনের মধ্যে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাবর আলী সরদার (৪৫) ও ১৯ ফেব্রুয়ারি শফিকুল সানার (৪৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কিন্তু আব্দুল আজিজ মোড়ল নিখোঁজ ছিলেন। ট্রলার ডুবির ২১ দিন পর মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কপোতাক্ষ নদের কুড়িকাহুনিয়া ভাঙন পয়েন্ট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হল।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গোলাম কবীর ট্ররার ডুবির ঘটনায় সব শেষ নিখোঁজ শ্রমিক আব্দুল আজিজ মোড়লের মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
