বাংলাদেশ গেমসের মশাল জ্বালাবেন সিদ্দিকুর ও শিলা

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০১:৩২ এএম

যে কোনো মাল্টি ডিসিপ্লিন গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে মশাল প্রজ্বলন। এক বা একাধিক কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ মশাল প্রজ্বালনের মতো মর্যাদাকর দায়িত্ব পান। ২০১৩ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসের মশাল প্রজ্বালন করেছিলেন প্রয়াত হকি তারকা জুম্মন লুসাই। আর ১ এপ্রিল থেকে শুরু বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে এই গৌরবের অধিকারী হতে যাচ্ছেন দুজন কৃতী ক্রীড়াবিদ। অলিম্পিক গেমসের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করা গলফার সিদ্দিকুর রহমান ও ২০১৬ এসএ গেমসে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদকজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা।

এই প্রজন্মের এই দুই তারকাই শুধু নন, বিওএ মোট ২০ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা করেছে মশাল র‌্যালির জন্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ গেমসের নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে। তাই সম্ভাব্য ৩০ মার্চ মশাল র‌্যালি শুরু হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মভিটা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে। সাবেক ফুটবলার ইলিয়াস হোসেন, অ্যাথলেট মিলজার হোসেন, ভলিবল খেলোয়াড় জেসমিন খান পপি ও শুটার আতিকুর রহমান টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে মশাল নিয়ে যাত্রা শুরু করবেন। পথিমধ্যে ঘুনাপাড়া নামক স্থানে তারা মশাল হস্তান্তর করবেন সাবেক হ্যান্ডবল খেলোয়াড় খায়রুজ্জামান ও সাঁতারু শাহজাহান আলী রনির কাছে। এই দুজন পুলিশ লাইনস মোড়ে এসে মশাল বুঝিয়ে  দেবেন উশু খেলোয়াড় মেজবাহউদ্দিন ও তায়কোয়ান্দো তারকা মিজানুর রহমানের কাছে। শহরের ভাটিয়াপাড়া মোড়ে এই দুজন মশাল তুলে দেবেন আরচার ইমদাদুল হক মিলন ও উশু খেলোয়াড় ইতি ইসলামের কাছে। সেখান থেকে এই দুজন যাত্রা শুরু করে মোকসেদপুর এসে মশাল হাতবদল করবেন হ্যান্ডবল তারকা ডালিয়া আক্তার এবং বাস্কেটবল খেলোয়াড় মিথুন সরকারের কাছে। এই দুজন মশাল নিয়ে আসবেন ভাঙ্গা। যেখানে অপেক্ষায় থাকবেন কাবাডি দলের সাবেক অধিনায়ক শাহনাজ পারভীন মালেকা এবং কারাতে তারকা জ উ প্রু। এই তুই তারকা চলে আসবেন পদ্মা পাড়ে কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে। মশাল নিয়ে পদ্মা নদী পার হবেন কৃতী অ্যাথলেট ফরহাদ জেসমিন লিটি এবং টেবিল টেনিস তারকা মাহবুব বিল্লাহ। তারা মাওয়া ঘাটে মশাল হস্তান্তর করবেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা শেখ মোহাম্মদ আসলাম ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর কাছে। মশাল ঢাকায় আসার পর একদিন সংরক্ষিত থাকবে বিওএ ভবনে। উদ্বোধনী দিনে আসলাম ও লিপু মশাল নিয়ে আসবেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকবেন সিদ্দিকুর রহমান ও মাহফুজা খাতুন শিলা। যাদের দায়িত্ব থাকবে মাঠ প্রদক্ষিণ করে মশাল প্রজ্বালনের।

মশাল প্রজ্বালনের সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মানছেন শিলা, ‘এটা আসলে প্রত্যেকটি অ্যাথলেটের স্বপ্ন থাকে। কারণ দেশের সর্বোচ্চ গেমসের মশাল প্রজ্বালনের সুযোগ পান কেবল সে দেশের সেরা ক্রীড়াবিদরাই। বিওএ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমি বিশেষভাবে উৎফুল্ল কারণ এটি বঙ্গবন্ধুর নামে উৎসর্গকৃত গেমস। তাছাড়া দেশের পঞ্চাশ বছরে হচ্ছে। আর সিদ্দিকুর ভাইয়ের মতো তারকার সঙ্গে মশাল প্রজ্বালনের সুযোগ পাচ্ছি। এর মধ্য দিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে আমাদের নাম উঠে যাবে। এটা অনেক বড় পাওয়া আমার জন্য।’

প্রায় সাড়ে আট হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা নিয়ে ৩১টি ডিসিপ্লিনের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের পর্দা নামবে ১০ এপ্রিল। ইতিমধ্যে নারী ক্রিকেট দিয়ে শুরু হয়েছে গেমসের ময়দানি লড়াই। করোনা মহামারীর কারণে গত বছর নির্ধারিত সময়ে আসরটি হতে পারেনি। সে সময় ৩৮ কোটি টাকার বাজেট করেছিল বিওএ। কিন্তু এ বছর বাজেট প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। এবারই প্রথম ঢাকার বাইরেও আটটি ভেন্যুতে হবে খেলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসরটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত