একটি কৃত্রিম পায়ের অভাবে স্কুলে যেতে পারছে না ঈশিতা

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০৩:০২ পিএম

ঈশিতার বয়স মাত্র ১২ বছর। কিছুদিন আগেও ঈশিতা গ্রামের অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক চলাফেরা ও খেলাধুলা করেছে। তার সেই প্রাণজাঞ্চল্যতা হঠাৎ একটি ঝড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

একটি টিউমার কেড়ে নিয়েছে ঈশিতার একটি পা। এখন ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করলেও স্কুলে যাওয়ার মত শক্তি সামর্থ্য নেই।

অর্থের অভাবে ঈশিতার একটি কৃত্রিম পা লাগাতে পারছেন না চালক বাবা ঈমান শেখ। সে স্থানীয় বড় সিংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নুরু মন্ডল পাড়ার রিকশা চালক ঈমান শেখের মেয়ে ঈশিতার পায়ে দুই বছর আগে টিউমার ধরা পড়ে। কিন্তু আর্থিক টানাপোড়নে চিকিৎসা করাতে দেরি হওয়ায় মেয়েটির পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সেখান থেকেই তার দুর্বিষহ জীবনের শুরু। বন্ধ হয়ে গেছে পড়ালেখা।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একটি কৃত্রিম পা লাগালে অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে শিশু ঈশিতা।

পা লাগাতে দরকার ৭০-৮০ হাজার টাকা। তবে এত টাকা জোগাড়ের সামর্থ্য তার পরিবারের নেই। তবে অসহায় বাবা-মা এখনো স্বপ্ন দেখেন তাদের প্রিয় সন্তানের পাশে কেউ না কেউ দাঁড়াবে। আবারো স্বাভাবিকভাবে হাঁটবে তাদের আদরের ঈশিতা।

ঈশিতা জানায়, হাতলে ভর দিয়ে হাঁটতে আর ভালো লাগে না আমার ,অনেক কষ্ট হয়। মন চায় সবার সঙ্গে হাঁটতে, খেলতে, স্কুলে যেতে। কিন্তু পারি না পায়ের জন্য। সে আরো বলে সে ৩৯ নং বড় সিংড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ছি। কৃত্রিম পা হলে সে আবারো ঠিকভাবে স্কুল যেতে পারবে, ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারবো।

ঈশিতার বাবা ঈমান শেখ বলেন, তাদের ২ মেয়ে, ১ ছেলে। অসুস্থ ঈশিতার চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক জায়গা থেকে ধার-দেনা করেন তারা। তাতেও কাজ না হওয়ায় বসত বাড়িটা বন্ধক রেখে মেয়ের পায়ের অপারেশন করি। এখন আমি রিকশা চালিয়ে এবং আমার স্ত্রী রেশমা বেগম দৌলতদিয়া ঘাটে একটি খাবার হোটেলে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাই।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাবেক মহিলা মেম্বার ও ঈশিতাদের প্রতিবেশী এলিনা বেগম বলেন, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে মেয়েটির পায়ে টিউমার ধরা পড়ে। ধীরে ধীরে তা জটিল আকার ধারণ করলে ২০২০ সালের প্রথম দিকে মেয়েটির দরিদ্র বাবা বাড়ি বন্ধক রেখে এবং ধারদেনা করে অপারেশন করে মেয়েটির পা কেটে ফেলে।

ফরিদপুরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। চিকিৎসক কৃত্রিম পা লাগাতে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু এতে অন্তত ৭০-৮০ হাজার টাকা দরকার।

এ অর্থ জোগাড়ের সামর্থ্য এই পরিবারের নেই। আমি ছোট্ট ঈশিতার চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসতে আগে দানশীল প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

ঈশিতাকে সাহায্য পাঠানোর বিকাশ এবং নগদ অ্যাকাউন্ট নম্বর: ০১৯৪৪৮৬০৪২৬।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত