ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ ১১ দাবিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস কমিটির আয়োজনে রাজধানীতে পদযাত্রা করেছেন নারীরা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় গুলিস্তানের শহীদ নূর হোসেন চত্বর থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। এতে ৫০টি সংগঠন, জোট, নেটওয়ার্ক ও ফোরামের নারী সদস্যরা।
আব্দুল গনি সড়ক হয়ে জাতীয় ঈদগাহ ও সুপ্রিম কোর্ট পার হয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন গেট দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করে এ পদযাত্রা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বাধীনতা জাদুঘরের সামনে গিয়ে এটি শেষ হয়।
এসময় নারীরা ‘জাগো জাগো, বিশ্বনারী জাগো’, ‘সবাই মিলে এগিয়ে চলি, মুক্ত স্বাধীন জীবন গড়ি’, ‘নারীদিবস দিচ্ছে ডাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’, ‘আমার কথা আমি বলব, স্বাধীনভাবে জীবন গড়ব’, ‘রাষ্ট্র এবং পরিবারে, সমান হবে অধিকারে’, ‘মাঠে ঘাটে বাসে ট্রেনে, নারীর স্থান সবখানে’, ‘পুরুষের ক্ষমতা, ভেঙে হোক সমতা’, ‘ঘুমভাঙানি মাসি পিসি, চলো পুরুষতন্ত্র পিসি’, ‘শোক নয় শক্তি, তবে হবে মুক্তি’, ‘এসো ভাই এসো বোন, ‘গড়ে তুলি আন্দোলন’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব নিপীড়নমূলক আইন অনতিবিলম্বে বাতিল, জনজীবন ও পারিবারিক জীবনে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতকরণে ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইন বিলুপ্ত, জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদের আলোকে সব বৈষম্যমূলক আইন সংশোধন, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত মেনে নেওয়ার মানসিকতার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া, প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি হ্রাসে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া।
এ ছাড়াও, নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে পরিবারে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের অবসান, শাসন ব্যবস্থায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের পথ সুগম করতে সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ, পাঠ্যপুস্তকে নারীর বিভিন্ন ভূমিকার ইতিবাচক উপস্থাপন, পথেঘাটে ও গণ-পরিবহনে নারীকে উত্ত্যক্ত করা বন্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া, কর্মক্ষেত্রে সব ধরনের যৌন হয়রানি নিরসনে আইএলও কনভেনশনে অণুস্বাক্ষর করা, ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগকে জনমানুষের কল্যাণমুখী ও আস্থাভাজন করা এবং ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলার বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাসে বিচারক ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি করার দাবি তোলা হয় পদযাত্রায়।
