‘অবৈধ দখল ঠেকাতে’ সরকারি জমিতে ইউএনওর গাড়িচালকের ৫তলা ভবন!

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০৮:৩৭ পিএম

পাবনার ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িচালক মুকুলউদ্দিন সরকারি জমিতে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পৌর এলাকায় প্রধান সড়কের পাশে গত চার মাস ধরে ভবন নির্মাণের কাজ করলেও, ইউএনওর চালক হওয়ায় তাকে কেউ বাধা দেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসনের নাকের ডগায় মুকুলউদ্দিনের এমন কাণ্ডে হতবাক স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ফরিদপুর উপজেলার বনওয়ারী নগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বনওয়ারী নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে, দুই ইউনিট বিশিষ্ট পাঁচতলা এই ভবনের নির্মাণকাজ চলছে।

নির্মাণকর্মী টগর জানান, ‘পাঁচতলা বিশিষ্ট দুটি ইউনিটের ভবনের ভিত্তি এবং নিচতলার পিলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন আমরা কংক্রিটের ছাদ ঢালাই এবং প্রথম তলার সিঁড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছি’।

স্থানীয়রা জানান, গত চার মাস ধরে তাদের বাধা উপেক্ষা করে গায়ের জোরে এ নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন ইউএনওর গাড়িচালক মুকুল উদ্দিন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে বারবার অভিযোগ করেও কোনো ফল মেলেনি।

বনওয়ারীনগর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কে এম হাবিবুল হক জানান,  মুকুলের দখলে থাকা পৌর এলাকার খালিশাদহ মৌজায় ১২ শতাংশ আয়তনের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে এক সময় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের বাসভবন ছিল। পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় ১৯৯৬ সালে মাসিক ২০০ টাকা ভাড়া চুক্তিতে বাড়িটি স্ত্রী রাশিদা বেগমের নামে ইজারা নেন মুকুলউদ্দিন। ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি এখানে বসবাস শুরু করেন।

হাবিবুল আরো বলেন, ‘এটি খাস জমি, সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় এখানে স্থায়ীভাবে কংক্রিটের পাকা স্থাপনা নির্মাণে তার কোনো অধিকার নেই। তিনি ইজারার শর্ত ভঙ্গ করেছেন’।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউল হক অভিযোগ করেন, ইউএনওর চালক হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে দিনে দিনে খাস জমির পুরোনো বাড়ির অবকাঠামো ও গাছপালা কেটে বিক্রি করে দেন মুকুল। সম্প্রতি কোনো অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে পাঁচতলা ভবনও নির্মাণ শুরু করেন তিনি।

জিয়াউল আরো বলেন, ‘মুকুল যখন পুরোনো কাঠামো ভেঙে সরকারি জমি থেকে গাছ বিক্রির সময় আমরা পাবনার জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে তিনি বহুতল ভবন নির্মাণের সাহস দেখিয়েছেন’।

ভবন নির্মাণে অনুমোদন না থাকার কথা স্বীকার করেন মুকুল। তার দাবি স্থায়ী বন্দোবস্তের আবেদন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই ভবন নির্মাণ করছেন তিনি।

মুকুলউদ্দিন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জমি বরাদ্দের আবেদন করেছি। যেহেতু আমার পরিবার গত ২৫ বছর ধরে এখানে বসবাস করছে, সুতরাং সরকারি নিয়ম অনুসারে জমিটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে। আমার স্ত্রীর নামে পৌরসভা হোল্ডিং ট্যাক্স এবং বৈদ্যুতিক বিলও হালনাগাদ রয়েছে। আমার বসবাসের ঘর নষ্ট হয়ে পড়ায় বাড়ির কাজ শুরু করেছি। স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যু জায়গাটি দখল করতেই অভিযোগ করে আমাকে উচ্ছেদ করতে চাইছে’।

এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ আলী বলেন, ‘মুকুল সরকারি খাস জমিতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে আইনত অনুমতি নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি অবৈধ দখলদার নন। তবে ইজারা নেয়া সরকারি জমিতে পাকা স্থাপনা গড়ার সুযোগ নেই। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়া হবে। ইউএনওর চালক বলে কোনো বাড়তি সুবিধা নেয়ার সুযোগ নেই।

ইউএনও আহমেদ আলী আরো বলেন, ‘মুকুলের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছেন তারও অবৈধ দখলদার। খালিশাদহ মৌজায় প্রায় ১ দশমিক তিন ছয় একর সরকারি জমি বেদখলে রয়েছে। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত