দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ভারত থেকে দেশে ফিরলেন দুজন

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২১, ০৫:০৭ এএম

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন এক নারীসহ দুই বাংলাদেশি।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন ত্রিপুরার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ-আলম, ত্রিপুরায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রথম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান।

দেশে ফেরা ওই দুই বাংলাদেশি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার গুড়িগ্রামের আসমত আলীর মেয়ে সায়েস্তারা বেগম (৫০) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঝুমারকান্দা গ্রামের শশদর মজুমদারের ছেলে সমীর কুমার মজুমদার (৩৫)। দুজনই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সায়েস্তারা বেগম ১৩ বছর এবং সমীর কুমার মজুমদার ৮ বছর আগে নিখোঁজ হন। তবে তারা কবে, কীভাবে ভারতে চলে যান, এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি।

সায়েস্তারা বেগমের ভাই জয়নাল আবেদীন জানান, মানসিকভাবে অসুস্থ সায়েস্তারাকে ১৩ বছর আগে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর অনেক খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে খাইরুল আলম নামে এক মানবাধিকারকর্মীর মাধ্যমে জানতে পারি আমার বোন ভারতের ত্রিপুরা হাসপাতালে আছে। দীর্ঘ দিন পর বোনকে পেয়ে আমরা খুব খুশি।

এদিকে সমীর মজুমদারের ভাই অমীর মজুমদার বলেন, আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। ৮ বছর পর ভাইকে ফিরে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।

আখাউড়া চেকপোস্টের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার মোহাম্মদ জোবায়েদ আহমেদ বলেন, সায়েস্তারা ও সমীর আগরতলার মডার্ন সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের মাধ্যমে তাদের খবর জানতে পেরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। আগরতলার মডার্ন হাসপাতালে আরও ২২ বাংলাদেশি আছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন সুস্থ আছে। বাকিরা পুরোপুরি সুস্থ নয়। পর্যায়ক্রমে তাদেরও দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত