বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির ৪৫টি অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্তে ক্যাম্পাসে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি কমিটি। রবিবার বেলা পৌনে ১২টায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছান।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দের নেতৃত্বে ইউজিসির সিনিয়র সহকারী সচিব জামাল উদ্দিন এবং ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্যাম্পাসে আসেন।
এ সময় সাংবাদিকদের বিশ্বজিৎ চন্দ্র বলেন, অভিযোগের বিষয়ে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পুরো বিষয়টি জানানো হবে।
এর আগে গত ২ মার্চ ইউজিসির সিনিয়র সহকারী সচিব ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক বরাবর পাঠানো হয়। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় উপাচার্যের একান্ত সচিবকেও। এতে তদন্ত কাজ ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
ওই চিঠিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের দালিলিক প্রমাণাদি সাক্ষীদের উপস্থিত থাকার জন্য তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
উল্লেখ্য ২০১৯ সালে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কমলেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হয়েও অনুপস্থিতি থাকা, নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাস, ইচ্ছেমতো পদোন্নতি, আইন লঙ্ঘন করে একাডেমিক প্রশাসনিক পদ দখল ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি ১০ তলা ভবন ও একটি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজেও উপাচার্যের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসির অপর এক তদন্ত কমিটি। এ জন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।
