ঢাকা হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ি পর্যন্ত বিশ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম।
রবিবার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নগরীর বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন কাজ পরিদর্শনে যাওয়ার পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের সড়কে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এমন দৃশ্য দেখে গাড়ি থেকে নেমে এর প্রতিবাদ জানান।
মেয়র বলেন, চার হাজার দু’শ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে এ প্রকল্পের শুরু হয়ে চার বছরেও কাজ ৫০ ভাগ শেষ হয়নি। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা কাছে অভিযোগ করে আসছিল যে, বিআরটি প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।
রবিবার তিনি সরেজমিনে মহানগরীর সাইনবোর্ড এলাকায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রাস্তার কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের চিত্র নিজ চোখে দেখতে পান।
মেয়র বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা করা হচ্ছে। অথচ ওই সব রাস্তায় ব্যবহৃত নিম্নমানের ইটের খোয়া, বালু ও মাটি ফেলা হচ্ছে।
এ সময় তিনি এ সড়কের কাজে নিযুক্ত প্রকৌশলীদের দায়িত্বে অবহেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মেয়র জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছে। এতে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে। নিম্নমানের কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর বদনাম করা হচ্ছে।
তিনি নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করা বন্ধ রেখে সঠিক ও মানসম্পন্ন উপকরণ দিয়ে সড়কের কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
এ ব্যাপারে বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ.এস.এম ইলিয়াস শাহ জানান, সড়কের ওই অংশে ফ্লাইওভারের দুই পাশে সংযোগ সড়ক করা হবে। ওখানে গার্ডার রাখার জন্য ওই জায়গাটি প্রস্তুত করা হচ্ছিল। এটা স্থায়ী কোন কাজ নয়। মেয়র মহোদয় এটিকে স্থায়ী কাজ মনে করেছিলেন। প্রকল্পের কাজ গুণগত মানসম্পন্ন উপকরণ দিয়েই করা হচ্ছে। যা আমাদের প্রকৌশলীরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
