পেকুয়ায় বিএনপির কাউন্সিলে হামলা: স্কুলছাত্রীসহ আহত ৭

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২১, ০৬:৩৯ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কাউন্সিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে। মুখোশ পরিহিত ১০/১২ দুর্বৃত্তের হামলায় স্কুলছাত্রীসহ সাত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী আহত হন বলে অভিযোগ।

বিএনপি সূত্র জানায়, ধারালো কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে তাদের জখম করা হয়।

সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের বুধামাঝিরঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহতরা হলেন, বুধামাঝিরঘোনা গ্রামের যুবলীগ নেতা বাহাদুরের মেয়ে ও পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী শাহনাজ আক্তার মুন্নি (১৩), জামাল উদ্দিনের ছেলে বিএনপি সমর্থিত কর্মী আব্দুল কাদের (২৯), দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম, জামাল হোসেনের ছেলে যুবদল নেতা নুরুল কাদের, জালিয়াকাটা গ্রামের মৃত নুরুল আলমের ছেলে ছাত্রদল নেতা শওকত হোসেন (২৫), তার ভাই যুবদল নেতা বেলাল উদ্দিন (৪৩) ও উজানটিয়া সুতাচুরা গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে বিএনপি নেতা বদিউল আলম (৫০)।

এদের মধ্যে শওকত হোসেন ও নুরুল কাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) প্রেরণ করা হয়েছে।

তবে হামলার বিষয়টি নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

পেকুয়া সদর পশ্চিম জোন বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুল মোনাফ বলেন, বুধামাঝিরঘোনা বিএনপি নেতা ছরওয়ার কামাল মেম্বারের বাড়ির পাশে একটি মাঠে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশন চলছিল। হঠাৎ ৫/৬ রাউন্ড গুলির আওয়াজ শুনি। ১০/১২ জন মুখোশ পরা দুর্বৃত্ত মিটিংয়ে আক্রমণ চালায়। কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে আমাদের নেতাকর্মীদের জখম করে।

উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ মিটিং করছি। সম্মেলন হচ্ছে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন আক্রমণ করে। স্কুলছাত্রীসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বিকট আওয়াজ শুনেছি। নেতাকর্মী দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি করছে। গুলি নাকি বাজির আওয়াজ ঠিক বলতে পারব না। হামলাকারীরা মুখোশ পরা ছিল।

৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. বাহাদুর বলেন, বিএনপির সম্মেলন চলছে। বেড়িবাঁধের পাশে আমি আমার দোকানে ছিলাম। গন্ডগোল শুরু হলে লোকজন ছোটাছুটি করে। আমার মেয়ে দোকান থেকে মালামাল নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছে। এ সময় তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে।

স্থানীয়রা জানায়, আতঙ্ক ছড়িয়ে মিটিংয়ে হামলা চালায়। আমরা নারী-পুরুষ বের হয়ে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করি। এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বারবাকিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটি তাদের দলীয় কোন্দল। পদ-পদবি বঞ্চিতরা এ ন্যক্কারজনক হামলা করেছে। এখন দোষটা আওয়ামী লীগের কাঁধে তুলে দিচ্ছে। এটি বিএনপির পুরোনো স্বভাব।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কানন সরকার জানায়, আমাদের কেউ বলেনি। পুলিশও পাঠাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত