মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে কর্মীদের বেতন দিতে পেরে নগদ টাকা টানা-হেঁচড়ার ঝামেলা থেকে রেহাই পেয়েছেন পোশাক কারখানার মালিকরা। তারা বলছেন, এখন আর কাজ বন্ধ রেখে শ্রমিকদের হাতে হাতে বেতন দিতে হয় না। কারখানার হিসাবরক্ষকসহ অন্য কর্মকর্তাদেরও কর্মঘণ্টা বেঁচে যাচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘তৈরি পোশাকশিল্প শ্রমিকদের ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থাপনা : অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত পোশাকমালিকরা এসব কথা বলেন। মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় এ জে গ্রুপের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আগে রাজধানীর মতিঝিল থেকে নগদ টাকা নিয়ে আশুলিয়া-সাভার-গাজীপুর এলাকার কারখানাগুলোতে আসতে হতো। সিকিউরিটি সার্ভিসের ভ্যান ভাড়া করতে হতো। দিনভর টেনশন কাজ করত। কখন টাকা আসবে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটে কি না। এখন কোনো ঝামেলা ছাড়াই শ্রমিকরা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে বেতন পেয়ে যাচ্ছেন। কখন কারখানায় টাকার গাড়ি ঢুকবে তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে কোনো উৎকণ্ঠা থাকে না। তারা মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকে।’
অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনামুল হক বলেন, ‘ডিজিটাল মাধ্যমে বেতন চালু হওয়ায় নারীর ক্ষমতায়নে বড় ধরনের প্রভাব রেখেছে। আগে পোশাক কারখানার নারীকর্মীরা নগদ টাকায় বেতন নিয়ে বাসায় ফিরলে তাদের স্বামীরা পুরো টাকাই নিয়ে নিত। এখন তা পারে না।’
বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মিজানুর রশীদ বলেন, করোনাকালে ৯৮০টি ফ্যাক্টরি প্রায় ১২ লাখ শ্রমিকের ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেতন তারা সরাসরি তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পেয়েছেন। এক মুহূর্তে নির্বিঘেœ কভিড পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগে চার লাখ শ্রমিক বিকাশে তাদের বেতন-ভাতা পেতেন।
