ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে বামপন্থী কয়েকটি ছাত্র সংগঠন আহুত সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের আগেই তা দখলে করে নেয় ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুশ’র বেশি নেতাকর্মী পুরো ক্যানটিনে অবস্থান নিয়ে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় আসার বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছিল বামপন্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মধুর ক্যানটিনে ওই সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল।
সাধারণত মধুর ক্যানটিনের ভেতরে পূর্ব পাশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বসেন। উত্তর পাশে বসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে বসেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে পুরো মধুর ক্যানটিন দখলে রাখেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
দুপুর ১২টায় মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করতে এসে জায়গা না পেয়ে ক্যানটিনের পশ্চিম পাশের গেটে ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রিসহ নয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের আধা ঘণ্টার মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পশ্চিম পাশের গেটের সামনে দাঁড়িয়েই সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘দুপুর ১২টা থেকে মধুর ক্যানটিনে আমাদের সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুরো জায়গাটি দখল করে রেখেছে। ছাত্রলীগ শুধু মধুর ক্যান্টিন দখলে রাখছে না, পুরো ক্যাম্পাস এবং হলগুলোতেও দখলদারিত্ব কায়েম করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
জানতে চাইলে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কাউকে বাধা দেইনি। নিজেদের মতো আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ।
তিনি মোদির আসার বিরোধিতা করে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ১৯ মার্চ বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ ও মিছিল এবং ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় মশাল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি ভয়াবহ দুঃসময়ের মধ্যে আমরা আছি। শুধু সরকারের সমালোচনা করার কারণে লেখক মোশতাককে কারাগারে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। কার্টুন আঁকার কারণে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়েছে কার্টুনিস্ট কিশোরকে। শ্রমিক নেতা রুহুল আমিনসহ এখনো অনেকে কারাবন্দী। মানুষের সমস্ত ধরনের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
তারা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শাসকগোষ্ঠী জনগণকে বিচ্ছিন্ন রেখে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের ডাক দিচ্ছে। এই অবস্থায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির আসার প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিবেকবান মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো। প্রতিবাদ ঠেকাতে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে কর্মসূচি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যারা কর্মসূচি পালন করবে তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আমরা এর নিন্দা জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক আল কাদেরী জয়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবীর প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে মধুর ক্যানটিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।
