বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেলের (হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর) জায়গায় সিএস/আরএস জরিপ অনুসারে চিহ্নিত ৭৪টি অবৈধ স্থাপনা, দখল তিন মাসের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। ঢাকার জেলা প্রশাসক ও বিআইডব্লিউটিএর (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ) চেয়ারম্যানকে আদালতের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে আগামী ২৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের ডিজিকে (মহাপরিচালক) অভিযানে সব ধরনের সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে হাইকোর্টের আদেশে।
পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জনস্বার্থের একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে ৯ দফা নির্দেশনা দেয়। রায় অনুসারে জরিপের সময় হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর অংশে আদি চ্যানেল জরিপের বাইরে থাকায় জরিপের আবেদন দাখিল করা হয়। আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১২ অক্টোবর জরিপের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। নির্দেশনা অনুসারে জরিপের জন্য ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কয়েক মাস জরিপকাজ শেষে নদীর জায়গা দখলকারীদের তালিকা হলফনামা আকারে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে টিনশেড বাড়ি, চারতলা ভবন, একতলা ভবন, মাটি ভরাট, মসজিদের আংশিক স্থাপনাসহ ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ি, সরকারি হাসপাতাল, কারখানা ও সুপার মার্কেট।
আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, জরিপের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে প্রায় ৭৪টি প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেলের জায়গা দখল করে রেখেছে এবং হাইকোর্টের রায় অনুসারে তা উচ্ছেদ ও অপসারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট এসব অবৈধ স্থাপনা আদেশের তিন মাসের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম।
